পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০২:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০২৪
  • / ৩০ Time View

পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত। প্রায় ৬ মাস নিষেধাজ্ঞা জারি রাখার পর শনিবার (৪ মে) এই ঘোষনা দিয়েছে দেশটির সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, ভোটের ফলাফলে যেন কৃষকদের ক্ষোভের আঁচ না লাগে সেজন্যই বিজেপি এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।

শনিবার দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতি টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য (মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস- এমইপি) ৫৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চলমান লোকসভা নির্বাচনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারে আসীন দল বিজেপি। গত বছর ডিসেম্বরে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের কারণে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের কৃষকরা ব্যাপক লোকসানের শিকার হন; ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে তাদের। অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে রাজ্যটির প্রতিটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপি প্রার্থীরা।

ভোটের ফলাফলে যেন কৃষকদের ক্ষোভের আঁচ না থাকে— সেজন্যই বিজেপি এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বলে ধারণা অনেক রাজনীতি বিশ্লেষকের।

অন্যদিকে এর আগে গত ২৩ মার্চ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ভারত। তখন দেশের বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও, দুই দিন পর থেকে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে।

তখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা থেকে কমে বিক্রি হয়েছিল ৫২-৬০ টাকায়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪৭-৫৩ টাকা থেকে কমে ৪২-৫২ টাকা হয়েছিল।

কারওয়ান বাজারের মেসার্স মাতৃভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী সজিব শেখ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষ প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ কিনেছে। এরপর বাজারে চাহিদা কমে গেছে।’

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রকে বলা হয় ভারতের পেঁয়াজের রাজধানী। দেশটির মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের অধিকাংশই আসে এই রাজ্য থেকে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরিশাসসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করে ভারত।

ভারতের রাজনৈতিক অর্থনীতিতেও পেঁয়াজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল, বিশেষ করে ভোটের বেলায়। ১৯৮০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ওই নির্বাচনকে ‘পেঁয়াজের নির্বাচন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কংগ্রেসের সভানেত্রী ইন্দিরা গান্ধী। কারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধজ্ঞা দিয়েছিল নয়াদিল্লিতে সে সময়ে আসীন কংগ্রেসবিরোধী সরকার।

নির্বাচনে জয়ের পর পেঁয়াজের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় কংগ্রেস সরকার; এতে কৃষক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে রীতিমতো পেঁয়াজ রপ্তানির হিড়িক পড়ে যায় এবং বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। এক পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ৬ রুপি পর্যন্ত উঠেছিল, যা ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে রীতিমতো ‘রাজকীয় মূল্য’।

গত বছর ডিসেম্বরে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথম পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হলেও পরে তা আরও বাড়ানো হয়। তার আগে ২০২৩ সালের আগস্টে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করেছিল নয়াদিল্লি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত

Update Time : ০২:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০২৪

পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারত। প্রায় ৬ মাস নিষেধাজ্ঞা জারি রাখার পর শনিবার (৪ মে) এই ঘোষনা দিয়েছে দেশটির সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, ভোটের ফলাফলে যেন কৃষকদের ক্ষোভের আঁচ না লাগে সেজন্যই বিজেপি এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।

শনিবার দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতি টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য (মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস- এমইপি) ৫৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চলমান লোকসভা নির্বাচনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারে আসীন দল বিজেপি। গত বছর ডিসেম্বরে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের কারণে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের কৃষকরা ব্যাপক লোকসানের শিকার হন; ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে তাদের। অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে রাজ্যটির প্রতিটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপি প্রার্থীরা।

ভোটের ফলাফলে যেন কৃষকদের ক্ষোভের আঁচ না থাকে— সেজন্যই বিজেপি এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে বলে ধারণা অনেক রাজনীতি বিশ্লেষকের।

অন্যদিকে এর আগে গত ২৩ মার্চ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ভারত। তখন দেশের বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও, দুই দিন পর থেকে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে।

তখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা থেকে কমে বিক্রি হয়েছিল ৫২-৬০ টাকায়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪৭-৫৩ টাকা থেকে কমে ৪২-৫২ টাকা হয়েছিল।

কারওয়ান বাজারের মেসার্স মাতৃভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী সজিব শেখ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষ প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ কিনেছে। এরপর বাজারে চাহিদা কমে গেছে।’

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রকে বলা হয় ভারতের পেঁয়াজের রাজধানী। দেশটির মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের অধিকাংশই আসে এই রাজ্য থেকে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরিশাসসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করে ভারত।

ভারতের রাজনৈতিক অর্থনীতিতেও পেঁয়াজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল, বিশেষ করে ভোটের বেলায়। ১৯৮০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ওই নির্বাচনকে ‘পেঁয়াজের নির্বাচন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কংগ্রেসের সভানেত্রী ইন্দিরা গান্ধী। কারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধজ্ঞা দিয়েছিল নয়াদিল্লিতে সে সময়ে আসীন কংগ্রেসবিরোধী সরকার।

নির্বাচনে জয়ের পর পেঁয়াজের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় কংগ্রেস সরকার; এতে কৃষক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে রীতিমতো পেঁয়াজ রপ্তানির হিড়িক পড়ে যায় এবং বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। এক পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ৬ রুপি পর্যন্ত উঠেছিল, যা ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে রীতিমতো ‘রাজকীয় মূল্য’।

গত বছর ডিসেম্বরে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথম পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হলেও পরে তা আরও বাড়ানো হয়। তার আগে ২০২৩ সালের আগস্টে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করেছিল নয়াদিল্লি।