‘পুঁজিবাজার সম্প্রসারণে ট্যাক্স ইনসেনটিভের দরকার নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০১:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪
  • / 13

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম মনে করেন, দেশের পুঁজিবাজার সম্প্রসারণে ট্যাক্স ইনসেটিভের দরকার নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,পুঁজিবাজারে অনেক ধরণের ট্যাক্স ইনটেনসিভ দেওয়া ছিলো, তাতে করে কি আমরা খুব বেশি ভালো ফলাফল দেখেছি? নাকি ক্যাপিটাল মার্কেটের সমস্যা অন্য কোথাও?

শুক্রবার (৭ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ব্যাবধান’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি জানি না যে তালিকাভুক্ত এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান পুঁজিবজার সম্প্রসারণের জন্য কতোটা কার্যকরী বিষয়। দীর্ঘদিন তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার কমিয়ে রাখা ছিলো, তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধানও বেশি ছিলো। তাতে করে কি আমাদের পুঁজিবাজার খুব বেশি ফুলে-ফেঁপে উঠেছিলো?

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে অনেক ধরণের ট্যাক্স ইনটেনসিভ দেওয়া ছিলো, তাতে করে কি আমরা খুব বেশি ভালো ফলাফল দেখেছি? নাকি ক্যাপিটাল মার্কেটের সমস্যা অন্য কোথাও? সেটা কি চিহ্নিত করা হয়েছে? আপনারা শুধু মনে করছেন যে করছাড়ই ক্যাপিটাল মার্কেটের সম্প্রসারণের একটি জায়গা? করছাড়ের এই চর্চা তো দীর্ঘ সময় ছিলো।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আসলে কথা হচ্ছে আমাদেরকে রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। করছাড়ের যে জায়গা সেটা ধীরে ধীরে আমরা কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। সেজন্য আমাদের এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে কার ছাড়ের জায়গাগুলো কমিয়ে আনা। অনেক জায়গায় আমরা এখন এই কর ছাড়ের চর্চা সীমিত করছি। সবশেষ এখন ২০ শতাংশে কর্পোরেট কর এসে দাঁড়িয়েছে। এরচেয়ে আমরা যদি ১৫ শতাংশ কর্পোরেট কর নির্ধারণ করি, তবে তো আমাদের রেভিনিউ আসবে না। আমাদের রাষ্ট্র এখনও সেই পর্যায়ে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার কমিয়েছি তাই আমাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানিরও করহার কমাতে হয়েছে। কিন্তু কমাতে কমাতে এই পর্যায়ে তো যেতে পারছি না যে রেভিনিউ জেনারেট করতে সমস্যায় পড়তে হবে।
গতকাল (০৬ জুন) আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয়করের হার কমানোর কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী পরিশোধিত মূলধনের নির্দিষ্ট পরিমাণের অধিক শেয়ার IPO (Initial Public Offering) এর মাধ্যমে হস্তান্তর হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার শর্তসাপেক্ষে ২২.৫% থেকে ২০% করার প্রস্তাব করেন।
অর্থমন্ত্রী তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার কমানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে এর মধ্যে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পরিপালন করলে কোম্পানিগুলোকে ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। আর শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে কর দিতে হয় ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে। অর্থমন্ত্রী কর হার বাড়িয়ে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা এবং শর্ত পরিপালন করলে ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। বাস্তবে শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে বর্তমানের সমান অর্থাৎ ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

‘পুঁজিবাজার সম্প্রসারণে ট্যাক্স ইনসেনটিভের দরকার নেই’

Update Time : ০১:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম মনে করেন, দেশের পুঁজিবাজার সম্প্রসারণে ট্যাক্স ইনসেটিভের দরকার নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,পুঁজিবাজারে অনেক ধরণের ট্যাক্স ইনটেনসিভ দেওয়া ছিলো, তাতে করে কি আমরা খুব বেশি ভালো ফলাফল দেখেছি? নাকি ক্যাপিটাল মার্কেটের সমস্যা অন্য কোথাও?

শুক্রবার (৭ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ব্যাবধান’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি জানি না যে তালিকাভুক্ত এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান পুঁজিবজার সম্প্রসারণের জন্য কতোটা কার্যকরী বিষয়। দীর্ঘদিন তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার কমিয়ে রাখা ছিলো, তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধানও বেশি ছিলো। তাতে করে কি আমাদের পুঁজিবাজার খুব বেশি ফুলে-ফেঁপে উঠেছিলো?

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে অনেক ধরণের ট্যাক্স ইনটেনসিভ দেওয়া ছিলো, তাতে করে কি আমরা খুব বেশি ভালো ফলাফল দেখেছি? নাকি ক্যাপিটাল মার্কেটের সমস্যা অন্য কোথাও? সেটা কি চিহ্নিত করা হয়েছে? আপনারা শুধু মনে করছেন যে করছাড়ই ক্যাপিটাল মার্কেটের সম্প্রসারণের একটি জায়গা? করছাড়ের এই চর্চা তো দীর্ঘ সময় ছিলো।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আসলে কথা হচ্ছে আমাদেরকে রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। করছাড়ের যে জায়গা সেটা ধীরে ধীরে আমরা কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে। সেজন্য আমাদের এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে কার ছাড়ের জায়গাগুলো কমিয়ে আনা। অনেক জায়গায় আমরা এখন এই কর ছাড়ের চর্চা সীমিত করছি। সবশেষ এখন ২০ শতাংশে কর্পোরেট কর এসে দাঁড়িয়েছে। এরচেয়ে আমরা যদি ১৫ শতাংশ কর্পোরেট কর নির্ধারণ করি, তবে তো আমাদের রেভিনিউ আসবে না। আমাদের রাষ্ট্র এখনও সেই পর্যায়ে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার কমিয়েছি তাই আমাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানিরও করহার কমাতে হয়েছে। কিন্তু কমাতে কমাতে এই পর্যায়ে তো যেতে পারছি না যে রেভিনিউ জেনারেট করতে সমস্যায় পড়তে হবে।
গতকাল (০৬ জুন) আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয়করের হার কমানোর কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী পরিশোধিত মূলধনের নির্দিষ্ট পরিমাণের অধিক শেয়ার IPO (Initial Public Offering) এর মাধ্যমে হস্তান্তর হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার শর্তসাপেক্ষে ২২.৫% থেকে ২০% করার প্রস্তাব করেন।
অর্থমন্ত্রী তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার কমানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে এর মধ্যে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পরিপালন করলে কোম্পানিগুলোকে ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। আর শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে কর দিতে হয় ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে। অর্থমন্ত্রী কর হার বাড়িয়ে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা এবং শর্ত পরিপালন করলে ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। বাস্তবে শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে বর্তমানের সমান অর্থাৎ ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।