পাটকল বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ১১:৫০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২০
  • / ১৫২ Time View
কে এম শরীয়াতুল্লাহ:
বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর পরিবেশ যখন প্লাস্টিকের আধিক্যের কারণে হুমকির মুখে সেসময় পচনশীল পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি না করে এ খাতকে সংকুচিত করার কোন কারণ নেই বরং এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
.
দেশের পরিবেশ ঝুঁকি মুক্ত রাখতে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে। পাটকলের উৎপাদন সংকুচিত করা ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ। কারণ দেশে প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার দায়বদ্ধতা থেকে সাম্প্রতিককালে পাট নিয়ে কাজ করছে এমন এভারগ্রীন জুটমিল, মা জুট মিল, সুমাইয়া জুটমিল, তাইফা এক্সপো, নকশী ঘর, ইজমা ব্র্যান্ড সহ অনেকের সাথে আমার কথা হয়।
.
গতকাল শনিবার পাটকলগুলো থেকে ২৫০০০ স্থায়ী শ্রমিক কে স্বেচ্ছা অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানার পরে উপরোল্লিখিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে আমি কথা বলে দেখেছি, তারা মনে করেন পাটকল বন্ধ হলে তার প্রভাব এদের প্রতিষ্ঠানেও পড়বে। কারণ এদের প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল আমদানিতে বাড়তি টাকা গুনতে হলে এদের উৎপাদিত পণ্য গুলোতে বাড়তি মূল্য সংযোজন করতে হবে। এতে করে পাটের প্রতি ভোক্তাদের অনীহা প্রকাশ পাবে।
.
পাঠকগণ বুঝতেই পারছেন এর শেষ কোথায়। আসুন এই পর্যায়ে পাট উৎপাদন ও এর সম্ভাবনা নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপ এর মতে পৃথিবীর মোট উৎপাদনের ৪৫% ভাগ পাট উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। কিন্তু বিশ্ব বাজারে পাটের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ততটা ভূমিকা রাখতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা দেখছেন উৎপাদন ক্ষেত্র ও রপ্তানি ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি। আজ গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে ২৫,০০০ স্থায়ী শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তে গত পাঁচ বছরে ২,৯৩৩ কোটি টাকা লোকসান দেখানো হয়েছে। সরকার যদি এই লোকসানের কারণ খুঁজতে তদন্ত করেন তাহলে দেখতে পাবে এর পেছনে হয়তো রয়েছে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা অস্বচ্ছতা।
.
বাংলাদেশ যদি এই অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে তবে কোন পাটকল বন্ধ করতে হবে না কিংবা শ্রমিকদের স্বেচ্ছা অবসরে পাঠাতে হবে না এবং পাঁচ বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে না। পরিশেষে বলছি, বিশ্বব্যাপী পাট পণ্যের চাহিদা বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেজন্য সরকারকে বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্র্যান্ডিং করতে হবে তাহলে পাট চাষী থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেমন লাভবান হবেন তেমনি বিশ্ব পরিবেশ হুমকির জায়গা থেকে ফিরে আসতে সহযোগী হবে।
.
লেখক: সংগঠক ও তরুণ উদ্যোক্তা।
.
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পাটকল বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী

Update Time : ১১:৫০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২০
কে এম শরীয়াতুল্লাহ:
বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর পরিবেশ যখন প্লাস্টিকের আধিক্যের কারণে হুমকির মুখে সেসময় পচনশীল পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি না করে এ খাতকে সংকুচিত করার কোন কারণ নেই বরং এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
.
দেশের পরিবেশ ঝুঁকি মুক্ত রাখতে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে। পাটকলের উৎপাদন সংকুচিত করা ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ। কারণ দেশে প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার দায়বদ্ধতা থেকে সাম্প্রতিককালে পাট নিয়ে কাজ করছে এমন এভারগ্রীন জুটমিল, মা জুট মিল, সুমাইয়া জুটমিল, তাইফা এক্সপো, নকশী ঘর, ইজমা ব্র্যান্ড সহ অনেকের সাথে আমার কথা হয়।
.
গতকাল শনিবার পাটকলগুলো থেকে ২৫০০০ স্থায়ী শ্রমিক কে স্বেচ্ছা অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানার পরে উপরোল্লিখিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে আমি কথা বলে দেখেছি, তারা মনে করেন পাটকল বন্ধ হলে তার প্রভাব এদের প্রতিষ্ঠানেও পড়বে। কারণ এদের প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল আমদানিতে বাড়তি টাকা গুনতে হলে এদের উৎপাদিত পণ্য গুলোতে বাড়তি মূল্য সংযোজন করতে হবে। এতে করে পাটের প্রতি ভোক্তাদের অনীহা প্রকাশ পাবে।
.
পাঠকগণ বুঝতেই পারছেন এর শেষ কোথায়। আসুন এই পর্যায়ে পাট উৎপাদন ও এর সম্ভাবনা নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপ এর মতে পৃথিবীর মোট উৎপাদনের ৪৫% ভাগ পাট উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। কিন্তু বিশ্ব বাজারে পাটের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ততটা ভূমিকা রাখতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা দেখছেন উৎপাদন ক্ষেত্র ও রপ্তানি ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি। আজ গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে ২৫,০০০ স্থায়ী শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তে গত পাঁচ বছরে ২,৯৩৩ কোটি টাকা লোকসান দেখানো হয়েছে। সরকার যদি এই লোকসানের কারণ খুঁজতে তদন্ত করেন তাহলে দেখতে পাবে এর পেছনে হয়তো রয়েছে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা অস্বচ্ছতা।
.
বাংলাদেশ যদি এই অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে তবে কোন পাটকল বন্ধ করতে হবে না কিংবা শ্রমিকদের স্বেচ্ছা অবসরে পাঠাতে হবে না এবং পাঁচ বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে না। পরিশেষে বলছি, বিশ্বব্যাপী পাট পণ্যের চাহিদা বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেজন্য সরকারকে বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্র্যান্ডিং করতে হবে তাহলে পাট চাষী থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেমন লাভবান হবেন তেমনি বিশ্ব পরিবেশ হুমকির জায়গা থেকে ফিরে আসতে সহযোগী হবে।
.
লেখক: সংগঠক ও তরুণ উদ্যোক্তা।
.