Monday, July 26, 2021
Homeজেলাপশুর হাট বসায় নষ্ট খেলার মাঠ: বাণিজ্যমুক্ত মাঠ চায় খেলোয়াড়রা

পশুর হাট বসায় নষ্ট খেলার মাঠ: বাণিজ্যমুক্ত মাঠ চায় খেলোয়াড়রা

তারেক মাহমুদ সুজনঃ

প্রতিবছর মাঠ খুঁড়ে, বাঁশ পুঁতে এবং ত্রিপল টানিয়ে পশুর হাট বসে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। কিন্তু পরে তা আর পরিষ্কার ও খেলার উপযোগী করা হয় না।মাঠ পরিষ্কার করার জন্য বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ইজারাদারা টাকা দিলেও তা কাজে লাগায় না বলে অভিযোগ করেন খেলোয়াড়রা। তাই বাণিজ্যমুক্ত খেলার মাঠের দাবিতে সরব হয়েছেন তারা।

জানা যায়, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গত ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ও ১৮ জুলাই(রবিবার) কোরবানির পশুর হাট বসেছে। এখনো খেলার উপযোগী করা হয় নি মাঠটি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল রাত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করছেন খেলোয়াড়রা। তাদের দাবি বাণিজ্যিকমুক্ত খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে হবে।

মাঠের ফুটবল খেলোয়াড় মো: লিটন ও মেহেদি হাসান সোহেল বিডিসমাচারকে জানান,প্রতি বছর পশুর বর্জ্যে এবং খোঁড়াখুঁড়িতে খেলার মাঠের দফারফা হয়ে যায়। কিন্তু তা পরে আর সংস্কার করা হয় না। কয়েকমাস আগে খেলতে গিয়ে বাঁশের খুটি পায়ে ঢুকে আহত হয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়। পরে গত জানুয়ারি মাসে মাটি ও বালি ফেলে গর্ত পূরণ করে ও খুটি তুলে খেলার উপযোগী করা হয় মাঠটি।খেলোয়াড়দের নিয়ে নিজেরা কাজ করে ঠিক করি মাঠটি। এতে মাটি, বালি ও অন্যান্য খরচসহ আমাদের ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু এই হাটের জন্য মাঠটি আবারও নষ্ট হয়ে যায়। দুইদিন পেরিয়ে গেলেও তা সংস্কার করে খেলার উপযোগী করে নি কর্তৃপক্ষ। আর সংস্কার করা হলেও সবুজ ঘাস ও আগের পরিবেশ ফিরেয়ে দিতে পারবে না তারা। কোন ভাবেই এটার ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়।তাই বাণিজ্যমুক্ত খেলার মাঠ চাই আমরা।

            কোরবানির পশুর হাট বসার আগের চিত্র।

মেহেদি হাসান সোহেল বলেন,মাঠ সংস্কার বাবদ ইজারাদাররা প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা করে দিলেও তা কাজে লাগায় না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আমাদেরকেই পরে নিজ উদ্যোগে তা সংস্কার করতে হয়। এই টাকা যায় কোথায় প্রশ্ন থেকে যায়।

অভিযোগটি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল হোসেন পাটোয়ারি বিডিসমাচারকে বলেন, আমাদেরকে টাকা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ইজারাদারই তা দেখভাল করেন।

তিনি বলেন মাঠ সংস্করণে আমি টাকা দিয়েছি। এই যে মাঠে বালি দেখা যায় এগুলো আমার ফেলা বালি। আমরাই মাঠ ঠিক করেছি। মাঠ পরিষ্কার করতে আমি নিজেই তাগাদা দিয়েছি এবং আজকেই তা ঠিক করে দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, তারা এসে আমাদের সাথে কথা বললেই তার একটা সমাধান পেত। ফেসবুকে এটা নিয়ে পোস্ট দেয়ার কিছুই নেই।তারা খেলতে এসে প্রতিবছর আমাদের যে পরিমাণ দরজা, জানালা গ্লাস ভাঙে ও গাছ নষ্ট করে তার আর্থিক ক্ষতি লাখ লাখ টাকা । তারপরও আমরা কিছু বলি না। তবুও তাদের ধৈর্য নাই কেন সেটা বুঝে আসে না।

যদিও খেলোয়াড়দের দাবি জানুয়ারি মাসে তারা মাঠ সংস্কার করলেও তিনি ১০হাজার টাকা দিয়েছেন মার্চ মাসে তাও বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ আসা টাকা থেকে। ইজারাদারদের থেকে পাওয়া টাকা কখনো এ কাজে ব্যবহার করেন নি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটের ইজারাদার মো: শহিদ উল্লাহ বিডিসমাচারকে বলেন, করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বিকল্প জায়গা না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে শেষ দুইটি কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। পুরো বছর কিন্তু আমরা এখানে হাট বসাই না।

বাণিজ্যমুক্ত মাঠের প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রশাসন যদি বিকল্প জায়গা করে দিতে পারে তাহলে এখানে হাট বসানোর প্রশ্ন আসত না। ২৩ লাখ টাকা দিয়ে ডাক এনেছি সুতরাং জায়গা দেয়ার দায়িত্বও সরকারের।

মাঠ পরিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, গতকালই তা ঠিক করে দেয়া হতো।আমি অসুস্থ থাকায় একদিন দেরি হলো। এখনই লোক আসছে আজকেই তা পরিষ্কার করে দেয়া হবে। আমি নিজেই পুরো কাজ শেষ করে এখান থেকে যাব। তাদের ধৈর্য ধরা উচিত ছিল। এভাবে অভিযোগ করার কোন ভিত্তি  নেই।

বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ১০হাজার টাকা করে দেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে টাকা দেয়ার কিছু নাই। আমরাই মাঠের দেখভাল করি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায় নি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular