নতুন রূপে সাকিবের শিক্ষা জীবনে পদার্পণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৭:২৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
  • / ১৯ Time View

এবার শিক্ষা উদ্যোক্তা পেশায় নাম লেখালেন বিশ্বক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং মাগুরার সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে তিনি এই ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বলেন “হ্যাঁ, আবার শিক্ষাজীবনে ফিরতে বাধ্য হলাম। তবে শিক্ষার্থী হিসেবে না বরং ডি স্মার্ট সলিউশন লিমিটেডের একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে।“

পোস্টটিতে সাকিব আল হাসান তার নিজের শিক্ষা ভাবনা তুলে ধরে বলেন, “আমার সবসময়েই মনে হয়েছে, আমাদের মেরুদন্ডকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য শিক্ষাবান্ধব গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে বই, মিড-ডে মিলের মতো অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। তারপরেও শিক্ষাব্যয় সামলাতে না পেরে প্রতিবছর বিপুল পরিমান শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাজীবন শেষ না করেই অকালে ঝরে পড়ছে”।

ডি স্মার্ট সলিউশন লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি মূলত দীর্ঘদিন যাবৎ দেশে ও দেশের বাহিরের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম, ব্যাগ, সোয়েটার, স্যু, স্টেশনারিসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রস্তুত ও সরবরাহের কাজ করে আসছে। সাকিব আল হাসান ডি স্মার্ট সলিউশন লিমিটেড সম্পর্কে উল্লেখ করেন, “এবার আমার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা ইউনিফর্মসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করার মাধ্যমে ঝরে পড়ার হারকে যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং জাতিসংঘ প্রদত্ত টেকসই উন্নয়নের ৪ নম্বর লক্ষ্যমত্রা অর্জনে (SDG 4) বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করা। তাই বাংলাদেশ সরকারের “নতুন বছর, নতুন বই কর্মসূচীকে আরো শক্তিশালী করতে আমরা চালু করতে যাচ্ছি, “নতুন বছর, নতুন বই, নতুন পোশাক কর্মসূচী”।

ডি স্মার্ট সলিউশন লিমিটেডের কোম্পানি পলিসি তুলে ধরে সাকিব আল হাসান বলেন, “কোম্পানিটির উদ্ভুত লভ্যাংশের একটি অংশ সরাসরি খরচ করা হবে হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে ইউনিফর্ম এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণে।“

উল্লেখ্য সাকিব আল হাসান তার ফেসবুক পেজ থেকে গত মঙ্গলবার কয়েক সেকেন্ডের একটা ভিডিও ছেড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবার আলোচনায় আসেন। সেখানে তাকে স্কুল ইউনিফর্ম পড়া অবস্থায় দেখা যায়। এসময় তার হাতে ছিলো স্কুল ব্যাগ এবং নেমপ্লেটে লেখা ছিল ফয়সাল। যে নামে তাকে তার স্কুল-কলেজের বন্ধুরা এবং মাগুরার সবাই চেনে। ভিডিওটিতে সাকিব আল হাসান বলেন, আবার শিক্ষা জীবনে ফিরতে বাধ্য হলাম।
এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সেসময় অনেকেই ব্যপারটিকে সাকিব আল হাসানের নতুন কোনো প্রডাক্ট প্রমোশনাল স্ট্যান্ট। সেই ভিডিওটির উত্তর দিতেই এই ভিডিওটি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করেন সাকিব আল হাসান।

রেস্টুরেন্ট, স্বর্ণসহ না না ধরণের ব্যবসায় ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু এবারই প্রথম শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখতে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার সীদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকেই ব্যপারটিকে বেশ ইতিবাচক চোখে দেখছেন।

উল্লেখ্য, ডি স্মার্ট সলিউশন লিঃ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন মোঃ মাইনুল হাসান দুলন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। ডি স্মার্ট সলিউশন লিঃ এর সাথে সাকিব আল হাসানের যুক্ত হওয়ার ব্যপারে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের গর্ব। তিনি আমাদের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে অনেক অনেক সন্মান এনে দিয়েছেন। তিনি ডি স্মার্ট সলিউশনের সাথে যুক্ত হওয়ায় আমরা আশা করছি আমাদের কার্যক্রমকে সারাদেশ এবং দেশের বাহিরে ছড়িয়ে দিতে সহজ হবে।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নতুন রূপে সাকিবের শিক্ষা জীবনে পদার্পণ

Update Time : ০৭:২৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

এবার শিক্ষা উদ্যোক্তা পেশায় নাম লেখালেন বিশ্বক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং মাগুরার সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে তিনি এই ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বলেন “হ্যাঁ, আবার শিক্ষাজীবনে ফিরতে বাধ্য হলাম। তবে শিক্ষার্থী হিসেবে না বরং ডি স্মার্ট সলিউশন লিমিটেডের একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে।“

পোস্টটিতে সাকিব আল হাসান তার নিজের শিক্ষা ভাবনা তুলে ধরে বলেন, “আমার সবসময়েই মনে হয়েছে, আমাদের মেরুদন্ডকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য শিক্ষাবান্ধব গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে বই, মিড-ডে মিলের মতো অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। তারপরেও শিক্ষাব্যয় সামলাতে না পেরে প্রতিবছর বিপুল পরিমান শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাজীবন শেষ না করেই অকালে ঝরে পড়ছে”।

ডি স্মার্ট সলিউশন লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি মূলত দীর্ঘদিন যাবৎ দেশে ও দেশের বাহিরের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম, ব্যাগ, সোয়েটার, স্যু, স্টেশনারিসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রস্তুত ও সরবরাহের কাজ করে আসছে। সাকিব আল হাসান ডি স্মার্ট সলিউশন লিমিটেড সম্পর্কে উল্লেখ করেন, “এবার আমার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা ইউনিফর্মসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করার মাধ্যমে ঝরে পড়ার হারকে যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং জাতিসংঘ প্রদত্ত টেকসই উন্নয়নের ৪ নম্বর লক্ষ্যমত্রা অর্জনে (SDG 4) বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করা। তাই বাংলাদেশ সরকারের “নতুন বছর, নতুন বই কর্মসূচীকে আরো শক্তিশালী করতে আমরা চালু করতে যাচ্ছি, “নতুন বছর, নতুন বই, নতুন পোশাক কর্মসূচী”।

ডি স্মার্ট সলিউশন লিমিটেডের কোম্পানি পলিসি তুলে ধরে সাকিব আল হাসান বলেন, “কোম্পানিটির উদ্ভুত লভ্যাংশের একটি অংশ সরাসরি খরচ করা হবে হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে ইউনিফর্ম এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণে।“

উল্লেখ্য সাকিব আল হাসান তার ফেসবুক পেজ থেকে গত মঙ্গলবার কয়েক সেকেন্ডের একটা ভিডিও ছেড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবার আলোচনায় আসেন। সেখানে তাকে স্কুল ইউনিফর্ম পড়া অবস্থায় দেখা যায়। এসময় তার হাতে ছিলো স্কুল ব্যাগ এবং নেমপ্লেটে লেখা ছিল ফয়সাল। যে নামে তাকে তার স্কুল-কলেজের বন্ধুরা এবং মাগুরার সবাই চেনে। ভিডিওটিতে সাকিব আল হাসান বলেন, আবার শিক্ষা জীবনে ফিরতে বাধ্য হলাম।
এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সেসময় অনেকেই ব্যপারটিকে সাকিব আল হাসানের নতুন কোনো প্রডাক্ট প্রমোশনাল স্ট্যান্ট। সেই ভিডিওটির উত্তর দিতেই এই ভিডিওটি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করেন সাকিব আল হাসান।

রেস্টুরেন্ট, স্বর্ণসহ না না ধরণের ব্যবসায় ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু এবারই প্রথম শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখতে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার সীদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকেই ব্যপারটিকে বেশ ইতিবাচক চোখে দেখছেন।

উল্লেখ্য, ডি স্মার্ট সলিউশন লিঃ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন মোঃ মাইনুল হাসান দুলন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। ডি স্মার্ট সলিউশন লিঃ এর সাথে সাকিব আল হাসানের যুক্ত হওয়ার ব্যপারে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের গর্ব। তিনি আমাদের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে অনেক অনেক সন্মান এনে দিয়েছেন। তিনি ডি স্মার্ট সলিউশনের সাথে যুক্ত হওয়ায় আমরা আশা করছি আমাদের কার্যক্রমকে সারাদেশ এবং দেশের বাহিরে ছড়িয়ে দিতে সহজ হবে।”