দুই-তিন বছরের আগে করোনামুক্ত হওয়া সম্ভব নয়

  • Update Time : ১২:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০
  • / 135
নিজস্ব প্রতিবেদক:

মহামারি করোনার সংক্রমণ আরও দুই-তিন বছর থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সময় দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি

এ সময় ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি ২-৩ মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চহারে নাও থাকতে পারে।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্যক উপলব্ধি করেন, এই মুহূর্তে তিনিই দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম ব্যক্তি। এটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, ধর্ম, বাণিজ্য, অর্থাৎ জীবনের সকল উপজীব্যকে ঘিরে। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে অধিকতর জোরালো নজর দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ এ তৎপরতারই অংশ।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, করোনা সংক্রমণের কিছুকাল পরেই বাংলাদেশে সংক্রমণের উঁচু হার কমে আসতে পারে। কিন্তু করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করলে অনেক লুকায়িত ও মৃত কেসও শনাক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা দৃষ্টিগোচর নাও হতে পারে।

করোনায় চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের সকলের হৃদয় অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমরা নিবেদিত অনেক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিকসহ অনেক শীর্ষ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট ও গুণীজন এবং অনেক মানুষকে হারিয়েছি। এটি জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

বক্তব্যে নিজের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়ে অধ্যাপক ডা. আজাদ বলেন, আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বেশ কয়েক দিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, সবার দোয়ায় আমি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছি।

উল্লেখ্য করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ হাজার ৮০৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৮ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩৪৩ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১৯৭৫ জন করোনা রোগী। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪০ হাজার ১৬৪ জন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

দুই-তিন বছরের আগে করোনামুক্ত হওয়া সম্ভব নয়

Update Time : ১২:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক:

মহামারি করোনার সংক্রমণ আরও দুই-তিন বছর থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের সময় দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি

এ সময় ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি ২-৩ মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চহারে নাও থাকতে পারে।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্যক উপলব্ধি করেন, এই মুহূর্তে তিনিই দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম ব্যক্তি। এটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, ধর্ম, বাণিজ্য, অর্থাৎ জীবনের সকল উপজীব্যকে ঘিরে। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে অধিকতর জোরালো নজর দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ এ তৎপরতারই অংশ।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, করোনা সংক্রমণের কিছুকাল পরেই বাংলাদেশে সংক্রমণের উঁচু হার কমে আসতে পারে। কিন্তু করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করলে অনেক লুকায়িত ও মৃত কেসও শনাক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা দৃষ্টিগোচর নাও হতে পারে।

করোনায় চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের সকলের হৃদয় অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমরা নিবেদিত অনেক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিকসহ অনেক শীর্ষ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট ও গুণীজন এবং অনেক মানুষকে হারিয়েছি। এটি জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

বক্তব্যে নিজের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়ে অধ্যাপক ডা. আজাদ বলেন, আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বেশ কয়েক দিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, সবার দোয়ায় আমি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছি।

উল্লেখ্য করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ হাজার ৮০৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৮ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩৪৩ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১৯৭৫ জন করোনা রোগী। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪০ হাজার ১৬৪ জন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।