তাপপ্রবাহকে দুর্যোগ ঘোষণা করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৭:২৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪
  • / ২০ Time View

তাপপ্রবাহকে দুর্যোগ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ হলে তা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাপপ্রবাহের মাত্রা দিন দিন আরও বাড়তে পারে। আমরা এটা অ্যাডজাস্ট করতে চাই। এটাকে দুর্যোগ ঘোষণা করা হবে। আমাদের যে পরিবেশ-পরিস্থিতি, তাতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।
তিনি বলেন, ‘গত মাসে তাপপ্রবাহের সময় আমরা প্রোগ্রাম রেডি করে ফেলেছিলাম। সারা দেশে পানি, স্যালাইন, ছাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশে দুটি ক্যাম্প করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। যেটি স্পিকারের উদ্বোধন করার কথা ছিল। এ দুই স্থান থেকে পানি, স্যালাইন, ছাতাসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। মানুষ এখানে আশ্রয় নিতে পারত। সব রেডি ছিল, তাঁবু ফেলে আমরা ক্যাম্প করতাম। কিন্তু, বৃষ্টি হওয়ায় তা আর হয়নি। ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ হলে তা মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের সব রেডি আছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ রাজশাহী ও পাবনায় মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়। এর পর ধীরে ধীরে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও আওতা বাড়ে। ১৩ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় রাঙামাটিতে। ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় তীব্র তাপপ্রবাহ। ওই দিন চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাটের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়। এর পর সারা দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল বৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে। কালবৈশাখীরও দেখা মেলে না। সারা দেশের তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

২০ এপ্রিল বিভিন্ন জায়গায় দিনের তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে অর্থাৎ তাপপ্রবাহ অতি তীব্র আকার ধারণ করে। ওই দিন ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়। মৃদু থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ প্রায় সারা দেশে বিস্তৃত হয়। এ সময়ে জনজীবনে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়।
২৯ এপ্রিল ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। সেটি ছিল চলতি মৌসুমে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। ৩০ এপ্রিল যশোরে তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে, যা ছিল ১৯৮৯ সালের পর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

তাপপ্রবাহকে দুর্যোগ ঘোষণা করবে সরকার

Update Time : ০৭:২৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪

তাপপ্রবাহকে দুর্যোগ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান। ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ হলে তা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাপপ্রবাহের মাত্রা দিন দিন আরও বাড়তে পারে। আমরা এটা অ্যাডজাস্ট করতে চাই। এটাকে দুর্যোগ ঘোষণা করা হবে। আমাদের যে পরিবেশ-পরিস্থিতি, তাতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।
তিনি বলেন, ‘গত মাসে তাপপ্রবাহের সময় আমরা প্রোগ্রাম রেডি করে ফেলেছিলাম। সারা দেশে পানি, স্যালাইন, ছাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশে দুটি ক্যাম্প করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। যেটি স্পিকারের উদ্বোধন করার কথা ছিল। এ দুই স্থান থেকে পানি, স্যালাইন, ছাতাসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। মানুষ এখানে আশ্রয় নিতে পারত। সব রেডি ছিল, তাঁবু ফেলে আমরা ক্যাম্প করতাম। কিন্তু, বৃষ্টি হওয়ায় তা আর হয়নি। ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ হলে তা মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের সব রেডি আছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ রাজশাহী ও পাবনায় মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়। এর পর ধীরে ধীরে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও আওতা বাড়ে। ১৩ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় রাঙামাটিতে। ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় তীব্র তাপপ্রবাহ। ওই দিন চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাটের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়। এর পর সারা দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল বৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে। কালবৈশাখীরও দেখা মেলে না। সারা দেশের তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

২০ এপ্রিল বিভিন্ন জায়গায় দিনের তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে অর্থাৎ তাপপ্রবাহ অতি তীব্র আকার ধারণ করে। ওই দিন ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়। মৃদু থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ প্রায় সারা দেশে বিস্তৃত হয়। এ সময়ে জনজীবনে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়।
২৯ এপ্রিল ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। সেটি ছিল চলতি মৌসুমে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। ৩০ এপ্রিল যশোরে তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে, যা ছিল ১৯৮৯ সালের পর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।