ঢাকার ২ সিটি করপোরেশনের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৭:২৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪
  • / ২০ Time View

জাননাহ, ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সি ফোরটি ও আইসিএলইআই এর যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ঢাকাকে বসবাসযোগ্য রাখতে আমাদের অন্তত কিছু স্থানকে সবুজায়ন করতে হবে। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন আমরা যখন রমনায় যাই অথবা ব্যোটানিক্যাল গার্ডেনে যাই সেখানে অন্যান্য স্থানের চেয়ে ৩-৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা কম থাকে। সে জন্যই আমাদের স্যাটেলাইট ইমেজ তৈরি করে গাছ লাগানোর স্থান নির্ধারণ করতে হচ্ছে। তাই নগর বনায়ন ও জলাভূমি নিয়ে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়, ঢাকার দুই মেয়রকে নিয়ে আলোচনায় বসে কাজ করব।

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ ০.৪৬ শতাংশ। সারা বিশ্বে যে কার্বন নিঃসরণ সেটা তো আমরা তৈরি করিনি। এটার দায় তো আমাদের নেওয়ার কথা নয়। কিন্তু কী করবো? আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ায় আমাদের ওপর যা খুশি তা চাপিয়ে দিতে পারে। আজ যদি জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ কোনোভাবে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশ হতো তাহলে একটার পর একটা নিষেধাজ্ঞা দিতো।

মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বর্তমান অর্থবছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এটিও যথেষ্ট নয় আমাদের সবাইকে যুক্ত হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনে কাজ করতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন করার জন্য কাজ করার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার নেতৃত্ব অনুসরণ করে এখন আর বসে না থেকে পুরো ঢাকা শহরকে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করবো। আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশন পরিবেশ রক্ষার জন্য আলাদা বাজেট করবো এবং সবার সঙ্গে একসাথে কাজ করে যাবো।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আজকে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারছি কারণ আমরা পরিকল্পনা করি এবং তা বাস্তবায়ন করি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যা কিছু নিয়েই পরিকল্পনা করা হয় তা যেন পরিবেশবান্ধব হয়। তাই আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। বাংলাদেশে সমস্যা যেমন ঢাকাকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে সমাধানও ঢাকা থেকেই হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল, সি-ফোরটি শহরের নির্বাহী পরিচালক মার্ক ওয়াটস, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জায়েদা খাতুনসহ অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকর্তা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঢাকার ২ সিটি করপোরেশনের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’ উদ্বোধন

Update Time : ০৭:২৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

জাননাহ, ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সি ফোরটি ও আইসিএলইআই এর যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ঢাকাকে বসবাসযোগ্য রাখতে আমাদের অন্তত কিছু স্থানকে সবুজায়ন করতে হবে। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন আমরা যখন রমনায় যাই অথবা ব্যোটানিক্যাল গার্ডেনে যাই সেখানে অন্যান্য স্থানের চেয়ে ৩-৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা কম থাকে। সে জন্যই আমাদের স্যাটেলাইট ইমেজ তৈরি করে গাছ লাগানোর স্থান নির্ধারণ করতে হচ্ছে। তাই নগর বনায়ন ও জলাভূমি নিয়ে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়, ঢাকার দুই মেয়রকে নিয়ে আলোচনায় বসে কাজ করব।

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ ০.৪৬ শতাংশ। সারা বিশ্বে যে কার্বন নিঃসরণ সেটা তো আমরা তৈরি করিনি। এটার দায় তো আমাদের নেওয়ার কথা নয়। কিন্তু কী করবো? আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ায় আমাদের ওপর যা খুশি তা চাপিয়ে দিতে পারে। আজ যদি জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ কোনোভাবে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশ হতো তাহলে একটার পর একটা নিষেধাজ্ঞা দিতো।

মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বর্তমান অর্থবছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এটিও যথেষ্ট নয় আমাদের সবাইকে যুক্ত হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনে কাজ করতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন করার জন্য কাজ করার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার নেতৃত্ব অনুসরণ করে এখন আর বসে না থেকে পুরো ঢাকা শহরকে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করবো। আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশন পরিবেশ রক্ষার জন্য আলাদা বাজেট করবো এবং সবার সঙ্গে একসাথে কাজ করে যাবো।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আজকে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারছি কারণ আমরা পরিকল্পনা করি এবং তা বাস্তবায়ন করি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যা কিছু নিয়েই পরিকল্পনা করা হয় তা যেন পরিবেশবান্ধব হয়। তাই আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। বাংলাদেশে সমস্যা যেমন ঢাকাকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে সমাধানও ঢাকা থেকেই হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল, সি-ফোরটি শহরের নির্বাহী পরিচালক মার্ক ওয়াটস, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জায়েদা খাতুনসহ অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকর্তা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।