ডেমরায় ক্রীড়া সামগ্রীর গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় ১০ ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৭:৩৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪
  • / ২৭ Time View

রাজধানীর ডেমরায় একটি ভবনে ক্রীড়া সামগ্রীর গোডাউনে আগুন লেগেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ ) রাত ১১টার পরে একটি চারতলা ভবনের তিনতলায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে আগুন লাগার সূত্রপাত প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সর্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, তারা রাত সাড়ে ১১টার পরে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। ঘটনাস্থলে প্রথম ইউনিট পৌঁছায় পৌনে ১২টায়। পরে আরও ৯টি ইউনিট পাঠানো হয়।

জানা গেছে, ডেমরার ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় চার তলা একটি ভবনের ৩ তলায় ক্রীড়া সামগ্রীর গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায়ও। ক্রমেই বেড়েছে আগুনের তীব্রতা।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এক দিকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তবে অন্যদিকে আবারও দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে আগুন। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। প্রথমে জানা যায়, ভবনটির চতুর্থ তলায় কাপড়ের গোডাউন রয়েছে। পরে ব্যবসায়ীরা জানান, সেটি আমদানি করা ক্রীড়া সামগ্রির গোডাউন।

আশেপাশে পানির উৎস কম থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। সেইসঙ্গে কিছুক্ষণ পর পর জানালার কাচ বিস্ফোরিত হচ্ছে। এলাকাবাসীকে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ডেমরা, পোস্তগোলা ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের মোট ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২৯শে ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি নামক বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এই অীগ্নিকান্ডে ৪৬ জন আগুনে পুড়ে মারা যান।

ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক মো. মাইন উদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৩টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে তারা প্রাথমিকভাবে ৩ জনকে মৃত অবস্থায়, ৪২ জনকে অচেতন অবস্থায়, জীবিত অবস্থায় ৭৫ জনকে উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার পর তা ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ক্রেনের সাহায্যে ভবনের সপ্তম তলা ও ছাদে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের নামিয়ে আনতে থাকেন তারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন জানান, ঘটনার পর আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ জন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন ও পুলিশ হাসপাতালে ১ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও ৮ জন শিশু রয়েছেন। এছাড়া আহত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ডেমরায় ক্রীড়া সামগ্রীর গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় ১০ ইউনিট

Update Time : ০৭:৩৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪

রাজধানীর ডেমরায় একটি ভবনে ক্রীড়া সামগ্রীর গোডাউনে আগুন লেগেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ ) রাত ১১টার পরে একটি চারতলা ভবনের তিনতলায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে আগুন লাগার সূত্রপাত প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সর্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, তারা রাত সাড়ে ১১টার পরে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। ঘটনাস্থলে প্রথম ইউনিট পৌঁছায় পৌনে ১২টায়। পরে আরও ৯টি ইউনিট পাঠানো হয়।

জানা গেছে, ডেমরার ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় চার তলা একটি ভবনের ৩ তলায় ক্রীড়া সামগ্রীর গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায়ও। ক্রমেই বেড়েছে আগুনের তীব্রতা।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এক দিকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তবে অন্যদিকে আবারও দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে আগুন। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। প্রথমে জানা যায়, ভবনটির চতুর্থ তলায় কাপড়ের গোডাউন রয়েছে। পরে ব্যবসায়ীরা জানান, সেটি আমদানি করা ক্রীড়া সামগ্রির গোডাউন।

আশেপাশে পানির উৎস কম থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। সেইসঙ্গে কিছুক্ষণ পর পর জানালার কাচ বিস্ফোরিত হচ্ছে। এলাকাবাসীকে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ডেমরা, পোস্তগোলা ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের মোট ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২৯শে ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি নামক বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এই অীগ্নিকান্ডে ৪৬ জন আগুনে পুড়ে মারা যান।

ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক মো. মাইন উদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৩টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে তারা প্রাথমিকভাবে ৩ জনকে মৃত অবস্থায়, ৪২ জনকে অচেতন অবস্থায়, জীবিত অবস্থায় ৭৫ জনকে উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার পর তা ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ক্রেনের সাহায্যে ভবনের সপ্তম তলা ও ছাদে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের নামিয়ে আনতে থাকেন তারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন জানান, ঘটনার পর আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ জন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন ও পুলিশ হাসপাতালে ১ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও ৮ জন শিশু রয়েছেন। এছাড়া আহত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়।