ডলারের দামে পার্থক্য, কমছে রিজার্ভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ১১:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ মে ২০২৩
  • / 114

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঐতিহাসিকভাবে ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দামের ব্যবধান ছিল ২ শতাংশের মতো। তবে ২০২২ সালের আগস্টে এই ব্যবধান ১২ শতাংশে পৌঁছে যায়। এখন এই ব্যবধান কার্যত ১৮ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার পর ডলারের দাম স্থিতিশীল হলেও দামের পার্থক্য খুব বেশি।

ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দামের এই ব্যবধানের কারণে প্রবাসী আয় কমছে, ফলে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও। সে জন্য ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দরের ব্যবধান না কমলে প্রবাসী আয় বাড়বে না। এতে ডলার-সংকটও কাটবে না বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বহুজাতিক এই ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দাম কৃত্রিমভাবে আটকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিময় হারের ওপরও কড়াকড়ি ছিল। দেশের রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাওয়ার জন্য কৃত্রিমভাবে ডলারের দাম আটকে রাখা ও বিনিময় হারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের দায় আছে বলে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বহন কঠিন হয়েছে। এ ছাড়া বাইরের ঋণ পরিশোধেও সমস্যা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানাচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য ডলার-সংকট কাটাতে ইতিমধ্যে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি পরিমাণে প্রবাসী আয় আনার জন্য ডলারের দাম ধীরে ধীরে বাড়ানো। এ ছাড়া বিনা প্রশ্নে প্রবাসী আয় দেশে আনার সুযোগ এবং মোবাইল ফোন আর্থিক সেবাদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বৈধভাবে আয় আনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এরপরও ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এখনো প্রত্যাশামতো বাড়েনি। ফলে সংকট রয়ে গেছে। ডলার-সংকট কেটে যাবে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায়ই এমন আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা দেখা যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরে হঠাৎ আমদানি খরচ বেড়ে যায়। ঠিক এ সময় শক্তিশালী হয় ডলার। তবে বাংলাদেশে আসা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এ সময় কমে যেতে থাকে। টাকার মান ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে, ফলে রিজার্ভ কমতে শুরু করে।

এ পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের ভাসমান হার নির্ধারণ শুরু করে। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ১১ শতাংশ কমে যায়। তবে দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বিশ্বব্যাংক বলছে, মুদ্রার ভাসমান বিনিময় হার থেকে সরে আসায় ২০২২ সালের আগস্টে ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দামের পার্থক্য আরও বেড়ে যায়, যার কারণে ব্যাংকগুলোয় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমে।

ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় আসার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। কোনো এক মাসে প্রবাসী আয় বাড়লেও পরের মাসে আবার কমতে দেখা গেছে। এ বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় বাড়লেও ফেব্রুয়ারিতে তা কমে যায়। পরের মাসে, অর্থাৎ মার্চে আবার গতি আসে প্রবাসী আয়ে, এপ্রিলে যা আবার কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশ করা হিসাবে দেখা গেছে, গত এপ্রিলে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। এই পরিমাণ গত বছরের এপ্রিলে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় অনেক কম। সে সময় প্রবাসী আয় এসেছিল ২০১ কোটি ডলার।

এখন ধারণা করা হচ্ছে যে প্রবাসী আয়ের একটা বড় অংশ হুন্ডি করে দেশে পাঠানো হচ্ছে। ব্যাংকাররা বলছেন, হুন্ডিতে পাঠানো হলে প্রতি ডলারে দর পাওয়া যায় ১১০ টাকার বেশি। অন্যদিকে বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দরে প্রবাসী আয়ের ডলার কিনলে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাস্তির মুখে পড়তে হয়। এ কারণে ব্যাংকগুলো বেশি দাম দিয়ে প্রবাসী আয় আনতে পারছে না।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ডলারের দামের পার্থক্য কমিয়ে আনতে ও বিনিময় হারের দ্রুত পতন ঠেকাতে ডলারের একাধিক দাম নির্ধারণ করার একটি আমল শুরু হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থার আওতায় তখন থেকে প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয়, আমদানি দায়ের জন্য ডলারের আলাদা দর নির্ধারণ করে দিতে শুরু করে ব্যাংকগুলো। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে পৃথক দামে।

এ সবকিছুর লক্ষ্য ছিল ডলার-সংকট মোকাবিলা, রিজার্ভের পতন ও ডলারের দামের পার্থক্য কমিয়ে আনা। তবে এই ব্যবস্থা কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করে। বাজারের চেয়ে কম দামে রপ্তানি আয় নগদায়নের ফলে টাকা অতিমূল্যায়িত হচ্ছে। আবার আমদানি ও প্রবাসী আয়ের মধ্যে পার্থক্যের ফলে আমদানিকারকদের বেশি দামে ডলার কিনতে হয়, যার সুবিধা পাচ্ছেন প্রবাসী আয় পাঠানো প্রবাসীরা।

অন্যদিকে ডলারের একাধিক হারের কারণে মুদ্রা কারবারিরা এক বাজার থেকে ডলার কিনে আরেক বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে ব্যাংকে ডলারের মজুত আরও কমছে।

বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে গত জানুয়ারি মাসের তথ্যের ভিত্তিতে। তবে গত মার্চ থেকে ব্যাংকগুলোয় ডলারের মজুত বাড়ছে, যদিও সংকট এখনো কাটেনি। ডলারের দর নিয়ে এখনো অস্থিরতা আছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে যে ঋণ দিয়েছে, তার অন্যতম শর্ত হলো, আগামী জুনে ডলারের এক দাম হতে হবে। শর্ত পালনের অংশ হিসেবে ডলারের দর ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। গত এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম আবার বেড়েছে, বেড়েছে প্রবাসী আয়ের ডলারের দামও। ফলে ১ মে থেকে রপ্তানিকারকেরা রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দর পাচ্ছেন ১০৬ টাকা। আর প্রবাসী আয়ে ডলারের দর দেওয়া হচ্ছে ১০৮ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এই সিদ্ধান্ত নেয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ডলারের দামে পার্থক্য, কমছে রিজার্ভ

Update Time : ১১:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ মে ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঐতিহাসিকভাবে ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দামের ব্যবধান ছিল ২ শতাংশের মতো। তবে ২০২২ সালের আগস্টে এই ব্যবধান ১২ শতাংশে পৌঁছে যায়। এখন এই ব্যবধান কার্যত ১৮ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার পর ডলারের দাম স্থিতিশীল হলেও দামের পার্থক্য খুব বেশি।

ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দামের এই ব্যবধানের কারণে প্রবাসী আয় কমছে, ফলে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও। সে জন্য ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দরের ব্যবধান না কমলে প্রবাসী আয় বাড়বে না। এতে ডলার-সংকটও কাটবে না বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বহুজাতিক এই ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দাম কৃত্রিমভাবে আটকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিময় হারের ওপরও কড়াকড়ি ছিল। দেশের রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাওয়ার জন্য কৃত্রিমভাবে ডলারের দাম আটকে রাখা ও বিনিময় হারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের দায় আছে বলে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বহন কঠিন হয়েছে। এ ছাড়া বাইরের ঋণ পরিশোধেও সমস্যা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানাচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য ডলার-সংকট কাটাতে ইতিমধ্যে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি পরিমাণে প্রবাসী আয় আনার জন্য ডলারের দাম ধীরে ধীরে বাড়ানো। এ ছাড়া বিনা প্রশ্নে প্রবাসী আয় দেশে আনার সুযোগ এবং মোবাইল ফোন আর্থিক সেবাদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বৈধভাবে আয় আনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এরপরও ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এখনো প্রত্যাশামতো বাড়েনি। ফলে সংকট রয়ে গেছে। ডলার-সংকট কেটে যাবে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায়ই এমন আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা দেখা যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরে হঠাৎ আমদানি খরচ বেড়ে যায়। ঠিক এ সময় শক্তিশালী হয় ডলার। তবে বাংলাদেশে আসা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এ সময় কমে যেতে থাকে। টাকার মান ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে, ফলে রিজার্ভ কমতে শুরু করে।

এ পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের ভাসমান হার নির্ধারণ শুরু করে। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ১১ শতাংশ কমে যায়। তবে দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বিশ্বব্যাংক বলছে, মুদ্রার ভাসমান বিনিময় হার থেকে সরে আসায় ২০২২ সালের আগস্টে ব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের দামের পার্থক্য আরও বেড়ে যায়, যার কারণে ব্যাংকগুলোয় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমে।

ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় আসার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। কোনো এক মাসে প্রবাসী আয় বাড়লেও পরের মাসে আবার কমতে দেখা গেছে। এ বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় বাড়লেও ফেব্রুয়ারিতে তা কমে যায়। পরের মাসে, অর্থাৎ মার্চে আবার গতি আসে প্রবাসী আয়ে, এপ্রিলে যা আবার কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশ করা হিসাবে দেখা গেছে, গত এপ্রিলে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। এই পরিমাণ গত বছরের এপ্রিলে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় অনেক কম। সে সময় প্রবাসী আয় এসেছিল ২০১ কোটি ডলার।

এখন ধারণা করা হচ্ছে যে প্রবাসী আয়ের একটা বড় অংশ হুন্ডি করে দেশে পাঠানো হচ্ছে। ব্যাংকাররা বলছেন, হুন্ডিতে পাঠানো হলে প্রতি ডলারে দর পাওয়া যায় ১১০ টাকার বেশি। অন্যদিকে বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দরে প্রবাসী আয়ের ডলার কিনলে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাস্তির মুখে পড়তে হয়। এ কারণে ব্যাংকগুলো বেশি দাম দিয়ে প্রবাসী আয় আনতে পারছে না।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ডলারের দামের পার্থক্য কমিয়ে আনতে ও বিনিময় হারের দ্রুত পতন ঠেকাতে ডলারের একাধিক দাম নির্ধারণ করার একটি আমল শুরু হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থার আওতায় তখন থেকে প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয়, আমদানি দায়ের জন্য ডলারের আলাদা দর নির্ধারণ করে দিতে শুরু করে ব্যাংকগুলো। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে পৃথক দামে।

এ সবকিছুর লক্ষ্য ছিল ডলার-সংকট মোকাবিলা, রিজার্ভের পতন ও ডলারের দামের পার্থক্য কমিয়ে আনা। তবে এই ব্যবস্থা কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করে। বাজারের চেয়ে কম দামে রপ্তানি আয় নগদায়নের ফলে টাকা অতিমূল্যায়িত হচ্ছে। আবার আমদানি ও প্রবাসী আয়ের মধ্যে পার্থক্যের ফলে আমদানিকারকদের বেশি দামে ডলার কিনতে হয়, যার সুবিধা পাচ্ছেন প্রবাসী আয় পাঠানো প্রবাসীরা।

অন্যদিকে ডলারের একাধিক হারের কারণে মুদ্রা কারবারিরা এক বাজার থেকে ডলার কিনে আরেক বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে ব্যাংকে ডলারের মজুত আরও কমছে।

বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে গত জানুয়ারি মাসের তথ্যের ভিত্তিতে। তবে গত মার্চ থেকে ব্যাংকগুলোয় ডলারের মজুত বাড়ছে, যদিও সংকট এখনো কাটেনি। ডলারের দর নিয়ে এখনো অস্থিরতা আছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে যে ঋণ দিয়েছে, তার অন্যতম শর্ত হলো, আগামী জুনে ডলারের এক দাম হতে হবে। শর্ত পালনের অংশ হিসেবে ডলারের দর ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। গত এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম আবার বেড়েছে, বেড়েছে প্রবাসী আয়ের ডলারের দামও। ফলে ১ মে থেকে রপ্তানিকারকেরা রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দর পাচ্ছেন ১০৬ টাকা। আর প্রবাসী আয়ে ডলারের দর দেওয়া হচ্ছে ১০৮ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এই সিদ্ধান্ত নেয়।