কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে জনগণের প্রধান অস্ত্র সচেতনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৭:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০
  • / ১৭৬ Time View
মোঃ ইসতিয়াক হোসেন সোয়েব:
কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন হু হু করে বেড়েই চলেছে।এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে জনগণের অসচেতনতা। বেশির ভাগ মানুষই অসচেতন।কিন্তু কোভিড-১৯ মোকাবেলা করতে হলে চাই জনগণের সচেতনতা।এই মুহূর্তে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে জনগণের অন্যতম প্রধান অস্ত্রই হচ্ছে “সচেতনতা”।
.
দেশের মদ্ধে কয়েকজায়গায় লকডাউন দেওয়া হলেও বেশিরভাগ মানুষই তা মানছে না।তাছাড়া বেশিরভাগ অঞ্চলই লকডাউনের আওতার বাইরে। মূলত এখন আমাদের একমাত্র অপশন ভ্যাক্সিন।ভ্যাক্সিন এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
.
ইতোমদ্ধেই কয়েক প্রতিষ্ঠান ভ্যাক্সিনের তৃতীয় স্তরের পরীক্ষা শুরু করেছে,যা পৃথিবীবাসীকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।চীন ইতোমদ্ধেই তাদের তৈরি ভ্যাক্সিন সেনাবাহিনীর উপর প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে।আশা করা যায় সাধারণ জনগণ হয়তো  খুব তাড়াতাড়িই  বহুল অপেক্ষাকৃত ভ্যাক্সিন হাতে পাবেন।
.
যতোদিন ভ্যাক্সিন হাতে আসছে না ততোদিন নিজেদেরকে সচেতন থাকতে হবে।কিন্তু দুঃখের বিষয় বেশিরভাগ মানুষই অসচেতন, সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলছে না।বাইরে অবাধ চলাফেরা করছে।
.
সুইডেনের বিশেষজ্ঞরা হার্ড ইমিউনিটির উপর গুরুত্ব দিয়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিলো।তারা অবাধে বাইরে চলাফেরা করেছিলো।এর ফলাফল হয়েছিলো খুবই ভয়াবহ।
.
 ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলও একই রাস্তায় হেটেছিলো।টিভি খুললেই আমরা ব্রাজিলের অবস্থা দেখতে পাচ্ছি।প্রশাসন সবসময় সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলার কথা বললেও বেশিরভাগ মানুষই তা মানছে না।অবাধে চলাফেরা করে যাচ্ছে যা ব্রাজিল সুইডেনের মতোই আমাদের জন্য  মারাত্মক ভুল প্রমাণিত হতে পারে।
.
আইসিইউ স্বল্পতার কারণে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে বাংলাদেশের  সাধারণ জনগণের আইসিইউ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।পেপার পত্রিকা খুললেই আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিদিনই কেও না কেও বিনাচিকিৎসায় আইসিইউ এর অভাবে মারা যাচ্ছে।অথচ প্রয়োজনীয় আইসিইউ থাকলে অনেকেরই জীবন বাচানো যেতো।এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না।অনেক দেশেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এই অবস্থায় সাধারণ জনগণের কৌশল কি হতে পারে? 
.
খুবই সাধারণ, মাস্ক পরিধান করা।সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলা।শুধু মাত্র মাস্ক পরিধান করেই অনেক দেশ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যথেষ্ট সাফল্য পেয়েছে। আশা করা যায় খুব তাড়াতাড়িই হয়তো পৃথিবী ভ্যাক্সিন এর মুখ দেখবে।কিন্তু ততোদিন নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হবে।এর জন্য দরকার সচেতনতা।কিন্তু দুঃখের ব্যাপার আমরা বেশিরভাগই কোভিড-১৯ সমস্যা নিয়ে উদাসীন। ইচ্ছে মতো বাইরে ঘোরাফেরা করছি।বাইরে গেলেও মাস্ক ব্যাবহার করছি না,সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলছি না।
.
সমাজে দশজনের মদ্ধে দুইজনও যদি অসচেতন থাকেন তাহলে ওই দুইজনই বাকি আটজনের মদ্ধে সংক্রমণ ছড়িয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট।তাই করোনা মোকাবেলা করার জন্য চাই জনসচেতনতা। জনসচেতনতা ছাড়া করোনা মোকাবেলা কোনো ভাবেই সম্ভব না।
.
লেখক: শিক্ষার্থী, আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে জনগণের প্রধান অস্ত্র সচেতনতা

Update Time : ০৭:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০
মোঃ ইসতিয়াক হোসেন সোয়েব:
কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন হু হু করে বেড়েই চলেছে।এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে জনগণের অসচেতনতা। বেশির ভাগ মানুষই অসচেতন।কিন্তু কোভিড-১৯ মোকাবেলা করতে হলে চাই জনগণের সচেতনতা।এই মুহূর্তে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে জনগণের অন্যতম প্রধান অস্ত্রই হচ্ছে “সচেতনতা”।
.
দেশের মদ্ধে কয়েকজায়গায় লকডাউন দেওয়া হলেও বেশিরভাগ মানুষই তা মানছে না।তাছাড়া বেশিরভাগ অঞ্চলই লকডাউনের আওতার বাইরে। মূলত এখন আমাদের একমাত্র অপশন ভ্যাক্সিন।ভ্যাক্সিন এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
.
ইতোমদ্ধেই কয়েক প্রতিষ্ঠান ভ্যাক্সিনের তৃতীয় স্তরের পরীক্ষা শুরু করেছে,যা পৃথিবীবাসীকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।চীন ইতোমদ্ধেই তাদের তৈরি ভ্যাক্সিন সেনাবাহিনীর উপর প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে।আশা করা যায় সাধারণ জনগণ হয়তো  খুব তাড়াতাড়িই  বহুল অপেক্ষাকৃত ভ্যাক্সিন হাতে পাবেন।
.
যতোদিন ভ্যাক্সিন হাতে আসছে না ততোদিন নিজেদেরকে সচেতন থাকতে হবে।কিন্তু দুঃখের বিষয় বেশিরভাগ মানুষই অসচেতন, সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলছে না।বাইরে অবাধ চলাফেরা করছে।
.
সুইডেনের বিশেষজ্ঞরা হার্ড ইমিউনিটির উপর গুরুত্ব দিয়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিলো।তারা অবাধে বাইরে চলাফেরা করেছিলো।এর ফলাফল হয়েছিলো খুবই ভয়াবহ।
.
 ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলও একই রাস্তায় হেটেছিলো।টিভি খুললেই আমরা ব্রাজিলের অবস্থা দেখতে পাচ্ছি।প্রশাসন সবসময় সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলার কথা বললেও বেশিরভাগ মানুষই তা মানছে না।অবাধে চলাফেরা করে যাচ্ছে যা ব্রাজিল সুইডেনের মতোই আমাদের জন্য  মারাত্মক ভুল প্রমাণিত হতে পারে।
.
আইসিইউ স্বল্পতার কারণে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে বাংলাদেশের  সাধারণ জনগণের আইসিইউ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।পেপার পত্রিকা খুললেই আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিদিনই কেও না কেও বিনাচিকিৎসায় আইসিইউ এর অভাবে মারা যাচ্ছে।অথচ প্রয়োজনীয় আইসিইউ থাকলে অনেকেরই জীবন বাচানো যেতো।এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না।অনেক দেশেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এই অবস্থায় সাধারণ জনগণের কৌশল কি হতে পারে? 
.
খুবই সাধারণ, মাস্ক পরিধান করা।সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলা।শুধু মাত্র মাস্ক পরিধান করেই অনেক দেশ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যথেষ্ট সাফল্য পেয়েছে। আশা করা যায় খুব তাড়াতাড়িই হয়তো পৃথিবী ভ্যাক্সিন এর মুখ দেখবে।কিন্তু ততোদিন নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হবে।এর জন্য দরকার সচেতনতা।কিন্তু দুঃখের ব্যাপার আমরা বেশিরভাগই কোভিড-১৯ সমস্যা নিয়ে উদাসীন। ইচ্ছে মতো বাইরে ঘোরাফেরা করছি।বাইরে গেলেও মাস্ক ব্যাবহার করছি না,সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলছি না।
.
সমাজে দশজনের মদ্ধে দুইজনও যদি অসচেতন থাকেন তাহলে ওই দুইজনই বাকি আটজনের মদ্ধে সংক্রমণ ছড়িয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট।তাই করোনা মোকাবেলা করার জন্য চাই জনসচেতনতা। জনসচেতনতা ছাড়া করোনা মোকাবেলা কোনো ভাবেই সম্ভব না।
.
লেখক: শিক্ষার্থী, আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।