কোনো ভাবেই ঢাবি ছাত্রলীগের আওতায় আসতে চায় না ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ

  • Update Time : ১১:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / 1026

জাননাহ, ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হলেও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়কে একযোগে প্রত্যাখান করেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের দেওয়া এ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা৷

জানতে চাইলে, শীর্ষ পদ প্রত্যাশী নেতা- ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য রাশেদুল ইসলাম, মো: জসিম উদ্দিন, রহমতুল্লাহ ও আসাদুজ্জামান আসাদ, সাজ্জাদ হোসেন, সেলিম আহমেদ, মো: শফিকুল ইসলাম টিপু সকলেই বলেন তারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আস্থাশীল এবং কোনোভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্ত হতে চান না।

তাদের বক্তব্য, টিএসসিতে ঢাবি ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী ঢাবির বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা তাদের জুনিয়রদের নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। অন্তত ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ সেখানে যায় নি বলে জোর দাবি করেন তারা৷

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মূল বক্তব্য গুলো নিন্মরূপ :

১। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ কে গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা ইউনিটের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে

২।কোনো ভাবেই ঢাবি ছাত্রলীগের আওতাভুক্ত হতে চায় না ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ

৩। দ্রুততম সময়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ কর্তৃক ঢাকা কলেজ কমিটি দেওয়ার প্রত্যাশা তাদের

৪। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কর্মীসভা বা ছাত্রসমাবেশ করে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে আশা করেন তারা

তবে দীর্ঘ দিন যাবৎ কমিটি না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেন তারা। কমিটিবিহীন অবস্থায় রাজনীতিতে সাংগঠনিকভাবে কিছুটা দুর্বলতা থাকে বলে উল্লেখ করেন তারা।

পাশাপাশি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা উচিত বলে মনে করেন তারা। কর্মীসভা বা সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবে বলেও আশা তাদের।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই ২০২৩ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ ইউনিটের সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি ও নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করা হয়। পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সিভি জমা দিতে বলা হয় ।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নেতা সেলিম আহমেদ বিডি সমাচার কে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ৭ কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের জন্য মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিল। সেটি ছাত্রলীগের কোনো সভা ছিল না। কিন্তু সৈকত সাহেব বলেছেন, সেখানে নাকি হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মী ছিল। টিএসসি অডিটোরিয়ামে কখনই ৭ কলেজের এত ছাত্রলীগ কর্মী ছিল না। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। আমি জানি সাধারণ শিক্ষার্থীরা যারা মূলত হলের বাইরে থাকে তারা সেখানে গিয়েছিল। তবে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ করতেই পারে।

তিনি বলেন, ঢাকা কলেজকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা ইউনিটের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সৈকত সাহেব বলেছেন, ঢাকা কলেজকে পাওয়ার ইউনিট থেকে সুপার পাওয়ারে পরিণত করবেন। তিনি আসলে কী করতে চেয়েছেন তা আমি বুঝতে পারছি না।

সেলিম আহমেদ বলেন, ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ঢাবির আওতায় এনে ৭ কলেজ ছাত্রলীগের মধ্যে স্থিতিশীলতা আনার কথা বলেছেন। অথচ তিনি এবং শয়ন সাহেব ঢাবির দায়িত্বে আসার পর ঢাবির এফ রহমান হল সহ বিভিন্ন হলে কি ধরনের গন্ডগোল লেগেছে তা আপনারা দেখেছেন। তারা দায়িত্ব নেওয়ার ৭-৮ মাস হয়ে গেলেও এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেন নি।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ সবসময় রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে সেলিম আহমেদ বলেন, ১ সেপ্টেম্বরের ছাত্র সমাবেশে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ প্রায় ৩ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত থেকেছে। এছাড়া যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ঢাকা কলেজ সবসময় সক্রিয় রয়েছে।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এর নির্দেশক্রমে সুশৃঙ্খলভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করে আসছি।

শেখ ইনানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আস্থাশীল এবং আমরা আশাবাদী যে দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের থেকে নেওয়া সিভি এবং আমাদের কার্যক্রম যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে একটি কর্মীসভার মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের জন্য একটি সুন্দর কমিটি আমাদের উপহার দিবে।

এ প্রসঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মো: জসিম উদ্দিন বিডি সমাচার কে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি জেলা ইউনিট, ঢাকা কলেজও একটি জেলা ইউনিট। একটি জেলা ইউনিট কীভাবে আরেকটি জেলা ইউনিটকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়?

উনারা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র ভালো করে দেখেছেন কি না ঢাবি ছাত্রলীগের কাছে এ প্রশ্নও রাখেন মো: জসিম উদ্দিন।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রহমত উল্লাহ বলেন, আমরা কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আওতায় কমিটি চাই না। ঢাকা কলেজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি জেলা ইউনিট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও একটি জেলা ইউনিট। একটি জেলা ইউনিট কখনোই আরেকটি জেলা ইউনিটের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চাইতে পারে না।

কমিটি গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে আমাদের সিভি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি এই মাসের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আমাদের কমিটি দিয়ে দিবে৷

ঢাবি ছাত্রলীগের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কেউ যায় নি বলেও উল্লেখ করেন রহমত উল্লাহ। তিনি বলেন, যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মতো জায়গায় একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে, সেখানে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী যাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ সেখানে গিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রার্থী মো: শফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের মতবিনিময় সভায় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, যদি আমাকে বলতেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কারা সেখানে গিয়েছিলেন?

সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত টিপু বলেন, আমার জানামতে সেখানে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ উপস্থিত ছিল না । কাজেই ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় সৈকত ভাই মনে হয় না এরকম কাউকে দেখাতে পারবেন যিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সেখানে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে সাত কলেজের একাডেমিক সমস্যা নিরসনকল্পে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সাত কলেজের কমিটি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সাত কলেজের একাডেমিক উন্নয়ন তখনই হবে, যখন সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করবে।

৭ কলেজের রাজনীতিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির মতো সুশৃঙ্খল ও সুন্দর করতে চান বলেও এসময় উল্লেখ করেন তানভীর হাসান সৈকত ।

পরে ঐ দিন তানভীর হাসান সৈকতের বক্তব্যের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং পরে ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ‘সেন্ট্রালেই আছি, সেন্ট্রালেই থাকবো, ‘ঢাবির সিদ্ধান্ত মানি না, মানবো না’, ‘অবৈধ সিদ্ধান্ত, মানি না মানবো না’ ‘ঢাবির অধীনে, যাবো না যাবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১০ (ছ) ধারায় বলা হয়েছে, ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, সরকারি বদরুন্নেসা কলেজ হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ও আবুজর গিফারি কলেজ উপরোক্ত কলেজসমূহ ঢাকা মহানগর সাংগঠনিক কলেজ ইউনিটের সদস্য ইউনিট হিসেবে গণ্য হবে।

তবে উপরোল্লিখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ঐতিহ্য, শিক্ষার্থী সংখ্যা, সাংগঠনিক গুরুত্ব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমকে আরও বেশি শিক্ষার্থী সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব বিবেচনা করে কলেজসমূহকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সরাসরি সাংগঠনিক আওতায় আনা হয়েছে। উক্ত সাংগঠনিক ইউনিটগুলো জেলা শাখার মর্যাদাপ্রাপ্ত হবে এবং কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ২৫ জন কাউন্সিলর প্রেরণ করবেন যা কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ কর্তৃক পূর্বেই অনুমোদিত হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বিডি সমাচার কে বলেন, ঢাকা কলেজকে গঠনতন্ত্র অনুসারে উপজেলা ইউনিটের পর্যায়ে রাখা হয়েছে। তাছাড়া এখন ৭ কলেজের এ বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে গিয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আমরা সে সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বিডি সমাচার কে বলেন, ৭ কলেজের কমিটি গঠনের বিষয়টি আমাদের অভ্যন্তরীণ একটি ব্যাপার। এটি এখন ছাত্রলীগের অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখছেন। সেখান থেকে যেরকম সিদ্ধান্ত হবে সেটি মেনে নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিডি সমাচার কে বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাথে কোনো রকম আলোচনা না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ৭ কলেজের কমিটি সংক্রান্ত দেওয়া বক্তব্যকে আমার কাছে দায়িত্বহীনতার পরিচয় মনে হয়েছে। নেতাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতেই পারে, কিন্তু সেজন্য সংগঠনকে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দিলে তা ছাত্রলীগের সুনাম ও সৌন্দর্য নষ্ট করে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে খুদে বার্তা দেওয়া হলে তিনি জানান, আমাদের সবার উচিত গঠনতন্ত্রকে অনুসরণ করা। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগকে গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অচিরেই গ্রহণ করা হবে।

ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত এর ৭ কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি কে ঢাবির আওতায় আনার বক্তব্য গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী কি না জানতে চেয়ে খুদে বার্তা দিলেও আর উত্তর দেন নি শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন কে একাধিকবার কল দিলেও ধরেন নি। পরে খুদে বার্তা প্রদান করলে তা দেখলেও তিনি কোনো রেসপন্স করেন নি।

উল্লেখ্য, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩০ নভেম্বর ২০১৩ সালে স্থগিত করা হয় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি। তখন ফুয়াদ হাসান পল্লব সভাপতি ও সাকিব হাসান সুইম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এ ঘটনার দীর্ঘ ৩ বছর পর ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিন মাসের জন্য নুর আলম ভূঁইয়া রাজুকে আহ্বায়ক করে একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

এরপর ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা কলেজ শাখার আহ্বায়ক সহ ১৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বর্তমানে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে ২৮ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৯০ জন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার বয়স বাড়ার কারণে ছাত্র রাজনীতি ত্যাগ করেছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কোনো ভাবেই ঢাবি ছাত্রলীগের আওতায় আসতে চায় না ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ

Update Time : ১১:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

জাননাহ, ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হলেও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়কে একযোগে প্রত্যাখান করেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের দেওয়া এ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা৷

জানতে চাইলে, শীর্ষ পদ প্রত্যাশী নেতা- ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য রাশেদুল ইসলাম, মো: জসিম উদ্দিন, রহমতুল্লাহ ও আসাদুজ্জামান আসাদ, সাজ্জাদ হোসেন, সেলিম আহমেদ, মো: শফিকুল ইসলাম টিপু সকলেই বলেন তারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আস্থাশীল এবং কোনোভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অন্তর্ভুক্ত হতে চান না।

তাদের বক্তব্য, টিএসসিতে ঢাবি ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী ঢাবির বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা তাদের জুনিয়রদের নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। অন্তত ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ সেখানে যায় নি বলে জোর দাবি করেন তারা৷

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মূল বক্তব্য গুলো নিন্মরূপ :

১। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ কে গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা ইউনিটের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে

২।কোনো ভাবেই ঢাবি ছাত্রলীগের আওতাভুক্ত হতে চায় না ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ

৩। দ্রুততম সময়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ কর্তৃক ঢাকা কলেজ কমিটি দেওয়ার প্রত্যাশা তাদের

৪। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কর্মীসভা বা ছাত্রসমাবেশ করে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে আশা করেন তারা

তবে দীর্ঘ দিন যাবৎ কমিটি না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেন তারা। কমিটিবিহীন অবস্থায় রাজনীতিতে সাংগঠনিকভাবে কিছুটা দুর্বলতা থাকে বলে উল্লেখ করেন তারা।

পাশাপাশি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা উচিত বলে মনে করেন তারা। কর্মীসভা বা সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবে বলেও আশা তাদের।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই ২০২৩ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ ইউনিটের সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি ও নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করা হয়। পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সিভি জমা দিতে বলা হয় ।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নেতা সেলিম আহমেদ বিডি সমাচার কে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ৭ কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের জন্য মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিল। সেটি ছাত্রলীগের কোনো সভা ছিল না। কিন্তু সৈকত সাহেব বলেছেন, সেখানে নাকি হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মী ছিল। টিএসসি অডিটোরিয়ামে কখনই ৭ কলেজের এত ছাত্রলীগ কর্মী ছিল না। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। আমি জানি সাধারণ শিক্ষার্থীরা যারা মূলত হলের বাইরে থাকে তারা সেখানে গিয়েছিল। তবে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ করতেই পারে।

তিনি বলেন, ঢাকা কলেজকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা ইউনিটের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সৈকত সাহেব বলেছেন, ঢাকা কলেজকে পাওয়ার ইউনিট থেকে সুপার পাওয়ারে পরিণত করবেন। তিনি আসলে কী করতে চেয়েছেন তা আমি বুঝতে পারছি না।

সেলিম আহমেদ বলেন, ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ঢাবির আওতায় এনে ৭ কলেজ ছাত্রলীগের মধ্যে স্থিতিশীলতা আনার কথা বলেছেন। অথচ তিনি এবং শয়ন সাহেব ঢাবির দায়িত্বে আসার পর ঢাবির এফ রহমান হল সহ বিভিন্ন হলে কি ধরনের গন্ডগোল লেগেছে তা আপনারা দেখেছেন। তারা দায়িত্ব নেওয়ার ৭-৮ মাস হয়ে গেলেও এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেন নি।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ সবসময় রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে সেলিম আহমেদ বলেন, ১ সেপ্টেম্বরের ছাত্র সমাবেশে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ প্রায় ৩ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত থেকেছে। এছাড়া যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ঢাকা কলেজ সবসময় সক্রিয় রয়েছে।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এর নির্দেশক্রমে সুশৃঙ্খলভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করে আসছি।

শেখ ইনানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আস্থাশীল এবং আমরা আশাবাদী যে দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের থেকে নেওয়া সিভি এবং আমাদের কার্যক্রম যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে একটি কর্মীসভার মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের জন্য একটি সুন্দর কমিটি আমাদের উপহার দিবে।

এ প্রসঙ্গে সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মো: জসিম উদ্দিন বিডি সমাচার কে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি জেলা ইউনিট, ঢাকা কলেজও একটি জেলা ইউনিট। একটি জেলা ইউনিট কীভাবে আরেকটি জেলা ইউনিটকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়?

উনারা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র ভালো করে দেখেছেন কি না ঢাবি ছাত্রলীগের কাছে এ প্রশ্নও রাখেন মো: জসিম উদ্দিন।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রহমত উল্লাহ বলেন, আমরা কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আওতায় কমিটি চাই না। ঢাকা কলেজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি জেলা ইউনিট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও একটি জেলা ইউনিট। একটি জেলা ইউনিট কখনোই আরেকটি জেলা ইউনিটের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চাইতে পারে না।

কমিটি গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে আমাদের সিভি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি এই মাসের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আমাদের কমিটি দিয়ে দিবে৷

ঢাবি ছাত্রলীগের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কেউ যায় নি বলেও উল্লেখ করেন রহমত উল্লাহ। তিনি বলেন, যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মতো জায়গায় একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে, সেখানে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী যাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ সেখানে গিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রার্থী মো: শফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের মতবিনিময় সভায় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, যদি আমাকে বলতেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কারা সেখানে গিয়েছিলেন?

সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত টিপু বলেন, আমার জানামতে সেখানে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কেউ উপস্থিত ছিল না । কাজেই ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় সৈকত ভাই মনে হয় না এরকম কাউকে দেখাতে পারবেন যিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সেখানে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে সাত কলেজের একাডেমিক সমস্যা নিরসনকল্পে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সাত কলেজের কমিটি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সাত কলেজের একাডেমিক উন্নয়ন তখনই হবে, যখন সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করবে।

৭ কলেজের রাজনীতিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির মতো সুশৃঙ্খল ও সুন্দর করতে চান বলেও এসময় উল্লেখ করেন তানভীর হাসান সৈকত ।

পরে ঐ দিন তানভীর হাসান সৈকতের বক্তব্যের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল এবং পরে ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ‘সেন্ট্রালেই আছি, সেন্ট্রালেই থাকবো, ‘ঢাবির সিদ্ধান্ত মানি না, মানবো না’, ‘অবৈধ সিদ্ধান্ত, মানি না মানবো না’ ‘ঢাবির অধীনে, যাবো না যাবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১০ (ছ) ধারায় বলা হয়েছে, ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, সরকারি বদরুন্নেসা কলেজ হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ও আবুজর গিফারি কলেজ উপরোক্ত কলেজসমূহ ঢাকা মহানগর সাংগঠনিক কলেজ ইউনিটের সদস্য ইউনিট হিসেবে গণ্য হবে।

তবে উপরোল্লিখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ঐতিহ্য, শিক্ষার্থী সংখ্যা, সাংগঠনিক গুরুত্ব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমকে আরও বেশি শিক্ষার্থী সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব বিবেচনা করে কলেজসমূহকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সরাসরি সাংগঠনিক আওতায় আনা হয়েছে। উক্ত সাংগঠনিক ইউনিটগুলো জেলা শাখার মর্যাদাপ্রাপ্ত হবে এবং কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ২৫ জন কাউন্সিলর প্রেরণ করবেন যা কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ কর্তৃক পূর্বেই অনুমোদিত হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বিডি সমাচার কে বলেন, ঢাকা কলেজকে গঠনতন্ত্র অনুসারে উপজেলা ইউনিটের পর্যায়ে রাখা হয়েছে। তাছাড়া এখন ৭ কলেজের এ বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে গিয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আমরা সে সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বিডি সমাচার কে বলেন, ৭ কলেজের কমিটি গঠনের বিষয়টি আমাদের অভ্যন্তরীণ একটি ব্যাপার। এটি এখন ছাত্রলীগের অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখছেন। সেখান থেকে যেরকম সিদ্ধান্ত হবে সেটি মেনে নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিডি সমাচার কে বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাথে কোনো রকম আলোচনা না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ৭ কলেজের কমিটি সংক্রান্ত দেওয়া বক্তব্যকে আমার কাছে দায়িত্বহীনতার পরিচয় মনে হয়েছে। নেতাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতেই পারে, কিন্তু সেজন্য সংগঠনকে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দিলে তা ছাত্রলীগের সুনাম ও সৌন্দর্য নষ্ট করে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে খুদে বার্তা দেওয়া হলে তিনি জানান, আমাদের সবার উচিত গঠনতন্ত্রকে অনুসরণ করা। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগকে গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অচিরেই গ্রহণ করা হবে।

ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত এর ৭ কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি কে ঢাবির আওতায় আনার বক্তব্য গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী কি না জানতে চেয়ে খুদে বার্তা দিলেও আর উত্তর দেন নি শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন কে একাধিকবার কল দিলেও ধরেন নি। পরে খুদে বার্তা প্রদান করলে তা দেখলেও তিনি কোনো রেসপন্স করেন নি।

উল্লেখ্য, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩০ নভেম্বর ২০১৩ সালে স্থগিত করা হয় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি। তখন ফুয়াদ হাসান পল্লব সভাপতি ও সাকিব হাসান সুইম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এ ঘটনার দীর্ঘ ৩ বছর পর ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর তিন মাসের জন্য নুর আলম ভূঁইয়া রাজুকে আহ্বায়ক করে একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

এরপর ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা কলেজ শাখার আহ্বায়ক সহ ১৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বর্তমানে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে ২৮ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৯০ জন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার বয়স বাড়ার কারণে ছাত্র রাজনীতি ত্যাগ করেছেন।