কোটা সংস্কার আন্দোলন : ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন শিক্ষার্থীদের

  • Update Time : ০৬:০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪
  • / 31

জাননাহ, ঢাবি প্রতিনিধি

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিলের দাবিতে এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ‘বাংলা ব্লকেড’ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হল, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও অমর একুশে হল এবং বোরহান উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা চানখারপুল মোড় অবরোধ করেছেন। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় ও নীলক্ষেত মোড় অবরোধ রেখেছেন।  

রোববার (৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আন্দোলনকারীরা জমায়েত হয়ে সেখান থেকে সোয়া ৩টায় বিশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধও করছেন আন্দোলনকারীরা।

আজ রাত ৮-৯টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আন্দোলনের এক সমন্বয়ক সারজিস আলম।

আন্দোলনে অংশ নিতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের যদি বাধ্য করা হয় আমরা প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাব। পূর্ব কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা আজ শাহবাগে জড়ো হয়েছি। পরবর্তী কর্মসূচি যা দেওয়া হবে, আমরা সে অনুযায়ী তা পালন করব।

এর আগে গতকাল শনিবার(৬ জুলাই) বিকেলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির শেষে আজকের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, রোববার বিকেল ৩টা থেকে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। শুধু শাহবাগ মোড় নয়, সাইন্সল্যাব, চানখারপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার প্রতিটি পয়েন্ট অবরোধ করা হবে। এসব পয়েন্টে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নেমে আসবেন এবং বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি সফল করবেন। আর ঢাকার বাইরে যেসব শিক্ষার্থীরা আছেন আপনারা জেলায় জেলায় মহাসড়কগুলো অবরোধ করবেন।

তিনি বলেন, সরকার মনে করেছে আমরা দুই-তিনদিন রাস্তা অবরোধ করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে যাব। সরকারের এই ধারণা যে ভুল সেটি আমাদের প্রমাণ করে দিতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি প্রয়োজনে আমরা হরতাল দিতে বাধ্য হবো।

এবার শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবিতে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবিগুলো হলো:

১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।

২. পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত)।

৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।

৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কোটা সংস্কার আন্দোলন : ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন শিক্ষার্থীদের

Update Time : ০৬:০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

জাননাহ, ঢাবি প্রতিনিধি

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিলের দাবিতে এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ‘বাংলা ব্লকেড’ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হল, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও অমর একুশে হল এবং বোরহান উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা চানখারপুল মোড় অবরোধ করেছেন। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় ও নীলক্ষেত মোড় অবরোধ রেখেছেন।  

রোববার (৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আন্দোলনকারীরা জমায়েত হয়ে সেখান থেকে সোয়া ৩টায় বিশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধও করছেন আন্দোলনকারীরা।

আজ রাত ৮-৯টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আন্দোলনের এক সমন্বয়ক সারজিস আলম।

আন্দোলনে অংশ নিতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের যদি বাধ্য করা হয় আমরা প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাব। পূর্ব কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা আজ শাহবাগে জড়ো হয়েছি। পরবর্তী কর্মসূচি যা দেওয়া হবে, আমরা সে অনুযায়ী তা পালন করব।

এর আগে গতকাল শনিবার(৬ জুলাই) বিকেলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির শেষে আজকের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, রোববার বিকেল ৩টা থেকে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। শুধু শাহবাগ মোড় নয়, সাইন্সল্যাব, চানখারপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার প্রতিটি পয়েন্ট অবরোধ করা হবে। এসব পয়েন্টে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নেমে আসবেন এবং বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি সফল করবেন। আর ঢাকার বাইরে যেসব শিক্ষার্থীরা আছেন আপনারা জেলায় জেলায় মহাসড়কগুলো অবরোধ করবেন।

তিনি বলেন, সরকার মনে করেছে আমরা দুই-তিনদিন রাস্তা অবরোধ করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে যাব। সরকারের এই ধারণা যে ভুল সেটি আমাদের প্রমাণ করে দিতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি প্রয়োজনে আমরা হরতাল দিতে বাধ্য হবো।

এবার শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবিতে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবিগুলো হলো:

১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।

২. পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সমস্ত গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত)।

৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।

৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।