কুবির দেয়ালে দেয়ালে ঝুলছে উপাচার্যের হামলার  ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৭:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪
  • / ২১ Time View

কুবি সংবাদদাতা:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষকদের ওপর বহিরাগত ও অছাত্র নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন ও প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীর হামলার ছবি ও বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করা শিক্ষকদের পদত্যাগপত্র ঝুলিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। 

গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) প্রশাসনিক ভবনের সামনে ও বিভিন্ন অনুষদের দেয়ালে দেয়ালে এ চিত্র দেখা যায়। 

এবিষয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এসব ছবি টানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। আজকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এসব দেখছে। যার কারণে খারাপ একটা মেসেজ যাচ্ছে। সেখানে শিক্ষকরা উপাচার্যের ওপর হামলা করেছে। উপাচার্যও অংশ নিয়েছে। কিন্তু বহিরাগত ও সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ওপর হাত তুলতে পারে না। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। 

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, মাননীয় উপাচার্য বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মানুষের কাছে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন এবং বলছেন সকল শিক্ষক তার সাথে আছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যের অপকর্মের প্রমাণসহ ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এবং উপাচার্যের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে, ওনার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা পদত্যাগ করেছে। সেই পদত্যাগপত্রের ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। 

উপাচার্যের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য ড. আবদুল মঈন বলেন, যারা এগুলো (ব্যানার) লাগিয়েছে তারা বলতে পারবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের পর ভিসির কক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কিছু দাবি দাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে গেলে দুইজন কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের সাবেক সদস্যরা শিক্ষকদের ওপর হামলা করেন। এরই জেরে তিন দফা ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি সাত দফা দাবি জানিয়ে আসছিল শিক্ষক সমিতি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভিসি, ট্রেজারার ও প্রক্টরের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষকরা। সবশেষ, গত (২৮ এপ্রিল) শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে ভিসি, ট্রেজারার ও প্রক্টরসহ ভিসিপন্থী সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতারা শিক্ষকদের কিল, ঘুষি ও ধাক্কা দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের অবস্থান দখলে নেন। এরপর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষক সমিতি ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কুবির দেয়ালে দেয়ালে ঝুলছে উপাচার্যের হামলার  ছবি

Update Time : ০৭:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪

কুবি সংবাদদাতা:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষকদের ওপর বহিরাগত ও অছাত্র নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন ও প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীর হামলার ছবি ও বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করা শিক্ষকদের পদত্যাগপত্র ঝুলিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। 

গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) প্রশাসনিক ভবনের সামনে ও বিভিন্ন অনুষদের দেয়ালে দেয়ালে এ চিত্র দেখা যায়। 

এবিষয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এসব ছবি টানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। আজকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এসব দেখছে। যার কারণে খারাপ একটা মেসেজ যাচ্ছে। সেখানে শিক্ষকরা উপাচার্যের ওপর হামলা করেছে। উপাচার্যও অংশ নিয়েছে। কিন্তু বহিরাগত ও সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ওপর হাত তুলতে পারে না। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। 

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, মাননীয় উপাচার্য বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মানুষের কাছে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন এবং বলছেন সকল শিক্ষক তার সাথে আছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যের অপকর্মের প্রমাণসহ ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এবং উপাচার্যের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে, ওনার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা পদত্যাগ করেছে। সেই পদত্যাগপত্রের ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। 

উপাচার্যের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য ড. আবদুল মঈন বলেন, যারা এগুলো (ব্যানার) লাগিয়েছে তারা বলতে পারবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের পর ভিসির কক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কিছু দাবি দাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে গেলে দুইজন কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের সাবেক সদস্যরা শিক্ষকদের ওপর হামলা করেন। এরই জেরে তিন দফা ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি সাত দফা দাবি জানিয়ে আসছিল শিক্ষক সমিতি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভিসি, ট্রেজারার ও প্রক্টরের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষকরা। সবশেষ, গত (২৮ এপ্রিল) শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে ভিসি, ট্রেজারার ও প্রক্টরসহ ভিসিপন্থী সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতারা শিক্ষকদের কিল, ঘুষি ও ধাক্কা দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের অবস্থান দখলে নেন। এরপর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষক সমিতি ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।