কুবিতে শহীদ বেদিতে ফুল দেওয়ায় নিয়মভঙ্গ, উচিত হয়নি বলল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০১:০৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৫৩ Time View

কুবি সংবাদদাতা:

মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণে নিয়মভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিরুদ্ধে। এসময় শিক্ষক সমিতির নেতাদের প্রশ্নের তোপের মুখে পড়েন শহীদ দিবস উদ্‌যাপন কমিটি। পরে ভুল স্বীকার করে করেন তারা।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২১ এর প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈন। তবে নিয়মভঙ্গ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ এবং সংগঠনগুলোর পুষ্পস্তবক অর্পণের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের ফুল দিতে আসাকে কেন্দ্র করে শহীদ মিনারে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এসময় নিয়মভঙ্গের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবু তাহের এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমার ছাত্ররা ফুল দেয় নাই, হলগুলো ফুল দেয় নাই, বিভাগগুলো ফুল দেয় নাই, আমার কর্মকর্তা – কর্মচারীরা ফুল দেয় নাই। ওনারা (পুলিশ ফাঁড়ি) অবশ্যই ফুল দিবেন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে দিবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে দিবেন এটা হতেই পারে না।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, শিক্ষক সমিতি আপনাদের এসব অপ্রীতিকর সিদ্ধান্ত মেনে নিবে না। আপনারা ফুল দিতে দোকান মালিক সমিতি আনবেন, ভূমিদস্যু সমিতি আনবেন। এগুলাই আপনাদের কাজ। আপনারা এসব করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন! এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে৷

এছাড়াও এ কাজের সাথে জড়িতদের নব্য জিন্নাহ বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষক সমিতি।

পরে প্রশ্নের তোপের মুখে পড়ে বিষয়টি উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, এখানে পুলিশ ফাঁড়ি ফুল দিতে আসছে৷ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও বিভাগসমূহ ফুল দেওয়ার পর তাদের দেওয়া উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও বিভাগ আগে ফুল দিবে তার পরবর্তীতে যদি বাহির থেকে, শহর থেকে আসে তখন তারা ফুল দিবে। কিন্তু তারা (দায়িত্বরত নাম ঘোষণাকারী) এটি ঘোষণা করেছে৷ এখানে ফুল দেওয়ার ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই আমি বলেছিলাম বিভাগ, হলগুলোর পর তাদের দেওয়া উচিত। এখানে যা হয়েছে তা নিয়ে পরবর্তীতে আমরা বসবো।

কার নির্দেশে ফুল দেওয়ার তালিকায় বহিরাগতদের নাম যুক্ত হলো এমন প্রশ্ন করা হলে এখন এটা নিয়ে কথা বলার সময় না বলে তিনি এড়িয়ে যান।

পরে সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকা অমিত দত্ত দুঃখ প্রকাশ করতে শোনা যায়।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈনের নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। রাত ১২ টা ০১ মিনিটে শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান, বিভিন্ন অনুষদের ডিনসহ শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কুবিতে শহীদ বেদিতে ফুল দেওয়ায় নিয়মভঙ্গ, উচিত হয়নি বলল প্রশাসন

Update Time : ০১:০৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

কুবি সংবাদদাতা:

মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণে নিয়মভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিরুদ্ধে। এসময় শিক্ষক সমিতির নেতাদের প্রশ্নের তোপের মুখে পড়েন শহীদ দিবস উদ্‌যাপন কমিটি। পরে ভুল স্বীকার করে করেন তারা।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২১ এর প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈন। তবে নিয়মভঙ্গ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ এবং সংগঠনগুলোর পুষ্পস্তবক অর্পণের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের ফুল দিতে আসাকে কেন্দ্র করে শহীদ মিনারে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এসময় নিয়মভঙ্গের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবু তাহের এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমার ছাত্ররা ফুল দেয় নাই, হলগুলো ফুল দেয় নাই, বিভাগগুলো ফুল দেয় নাই, আমার কর্মকর্তা – কর্মচারীরা ফুল দেয় নাই। ওনারা (পুলিশ ফাঁড়ি) অবশ্যই ফুল দিবেন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে দিবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে দিবেন এটা হতেই পারে না।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, শিক্ষক সমিতি আপনাদের এসব অপ্রীতিকর সিদ্ধান্ত মেনে নিবে না। আপনারা ফুল দিতে দোকান মালিক সমিতি আনবেন, ভূমিদস্যু সমিতি আনবেন। এগুলাই আপনাদের কাজ। আপনারা এসব করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন! এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে৷

এছাড়াও এ কাজের সাথে জড়িতদের নব্য জিন্নাহ বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষক সমিতি।

পরে প্রশ্নের তোপের মুখে পড়ে বিষয়টি উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, এখানে পুলিশ ফাঁড়ি ফুল দিতে আসছে৷ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও বিভাগসমূহ ফুল দেওয়ার পর তাদের দেওয়া উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও বিভাগ আগে ফুল দিবে তার পরবর্তীতে যদি বাহির থেকে, শহর থেকে আসে তখন তারা ফুল দিবে। কিন্তু তারা (দায়িত্বরত নাম ঘোষণাকারী) এটি ঘোষণা করেছে৷ এখানে ফুল দেওয়ার ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই আমি বলেছিলাম বিভাগ, হলগুলোর পর তাদের দেওয়া উচিত। এখানে যা হয়েছে তা নিয়ে পরবর্তীতে আমরা বসবো।

কার নির্দেশে ফুল দেওয়ার তালিকায় বহিরাগতদের নাম যুক্ত হলো এমন প্রশ্ন করা হলে এখন এটা নিয়ে কথা বলার সময় না বলে তিনি এড়িয়ে যান।

পরে সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকা অমিত দত্ত দুঃখ প্রকাশ করতে শোনা যায়।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈনের নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। রাত ১২ টা ০১ মিনিটে শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান, বিভিন্ন অনুষদের ডিনসহ শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।