কি ঘটছে ছিনতাই হওয়া কয়লাবাহী বাংলাদেশি জাহাজের সাথে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৮:২৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মার্চ ২০২৪
  • / ৪০ Time View

ভারত মহাসাগরে কয়লাবাহী বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক-ক্রুকে জিম্মি করে নিয়েছে সোমালিয়ার জলদস্যু। জাহাজটি দখলে নিয়ে সোমালিয়া উপকূলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তারা। আফ্রিকার মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে জাহাজটির গন্তব্য ছিল দুবাই।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে এমভি আবদুল্লাহ নামের জাহাজটি সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জিম্মি এক নাবিক জানিয়েছেন জাহাজটিকে সোমালিয়ান উপকূলের দিকে নেয়া হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোমালিয়ান উপকূল থেকে জাহাজটি ৫০০ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে।

জাহাজে থাকা ওই নাবিক আরও জানান, প্রায় শতাধিক জলদস্যু ছোট ছোট বোটে করে প্রথমে জাহাজটিকে ঘিরে ফেলে। পরে তারা সশস্ত্র অবস্থায় জাহাজে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় নাবিক ও ক্রুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে জলদস্যুরা কোনো নাবিকের ওপর হামলা চালায়নি বলে জানান ওই নাবিক।

জাহাজটিকে সোমালিয়া উপকূলে নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি নাবিকদের একটি কেবিনে আটকে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ক্যাপ্টেনকে দিয়ে জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নেয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত জলদস্যুরা কোনো দাবি করেনি বলেও জানান জিম্মি ওই নাবিক।জাহাজটির ২৩ নাবিক-ক্রুর সবাই বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ১১ জনই চট্টগ্রামের। জলদস্যুর কবলে পড়া জাহাজটি চট্টগ্রামভিত্তিক কবির স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলের (কেএসআরএম) সহযোগী সংস্থা এসআর শিপিং লাইনসের।

জানা যায়, এস আর শিপিংয়ের অধীনে এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি পরিচালিত হতো। এরআগে ২০১০ সালেও একই প্রতিষ্ঠানের জাহাজ এমভি জাহান মনি সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। দীর্ঘ ৩ মাস পর ২৬ নাবিকসহ জাহাজটি মুক্ত হয়।

জাহাজটির মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাজ এবং নাবিকদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে।

এদিকে ভারত মহাসাগরে গত কয়েক দশকে বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সোমালিয়ান জলদস্যুরা। এ কারণে এ জলপথ ব্যবহার করে পরিচালিত পণ্য পরিবহন ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে। তবে জলদস্যুদের কাছে বিষয়টি যতটা না ছিনতাই, তার চেয়ে বড় ধরনের ব্যবসা হিসেবে বিষয়টিকে দেখছে তারা। অনেক সময় দস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিকেরা এমনটাই জানিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কি ঘটছে ছিনতাই হওয়া কয়লাবাহী বাংলাদেশি জাহাজের সাথে

Update Time : ০৮:২৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মার্চ ২০২৪

ভারত মহাসাগরে কয়লাবাহী বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক-ক্রুকে জিম্মি করে নিয়েছে সোমালিয়ার জলদস্যু। জাহাজটি দখলে নিয়ে সোমালিয়া উপকূলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তারা। আফ্রিকার মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে জাহাজটির গন্তব্য ছিল দুবাই।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে এমভি আবদুল্লাহ নামের জাহাজটি সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জিম্মি এক নাবিক জানিয়েছেন জাহাজটিকে সোমালিয়ান উপকূলের দিকে নেয়া হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোমালিয়ান উপকূল থেকে জাহাজটি ৫০০ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে।

জাহাজে থাকা ওই নাবিক আরও জানান, প্রায় শতাধিক জলদস্যু ছোট ছোট বোটে করে প্রথমে জাহাজটিকে ঘিরে ফেলে। পরে তারা সশস্ত্র অবস্থায় জাহাজে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় নাবিক ও ক্রুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে জলদস্যুরা কোনো নাবিকের ওপর হামলা চালায়নি বলে জানান ওই নাবিক।

জাহাজটিকে সোমালিয়া উপকূলে নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি নাবিকদের একটি কেবিনে আটকে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ক্যাপ্টেনকে দিয়ে জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নেয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত জলদস্যুরা কোনো দাবি করেনি বলেও জানান জিম্মি ওই নাবিক।জাহাজটির ২৩ নাবিক-ক্রুর সবাই বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ১১ জনই চট্টগ্রামের। জলদস্যুর কবলে পড়া জাহাজটি চট্টগ্রামভিত্তিক কবির স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলের (কেএসআরএম) সহযোগী সংস্থা এসআর শিপিং লাইনসের।

জানা যায়, এস আর শিপিংয়ের অধীনে এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি পরিচালিত হতো। এরআগে ২০১০ সালেও একই প্রতিষ্ঠানের জাহাজ এমভি জাহান মনি সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে। দীর্ঘ ৩ মাস পর ২৬ নাবিকসহ জাহাজটি মুক্ত হয়।

জাহাজটির মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাজ এবং নাবিকদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে।

এদিকে ভারত মহাসাগরে গত কয়েক দশকে বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সোমালিয়ান জলদস্যুরা। এ কারণে এ জলপথ ব্যবহার করে পরিচালিত পণ্য পরিবহন ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে। তবে জলদস্যুদের কাছে বিষয়টি যতটা না ছিনতাই, তার চেয়ে বড় ধরনের ব্যবসা হিসেবে বিষয়টিকে দেখছে তারা। অনেক সময় দস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিকেরা এমনটাই জানিয়েছে।