কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে পরীক্ষা দিলেন খাদিজা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৪:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩
  • / ১৩৬ Time View

জবি প্রতিবেদক

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের গ্রেফতার হয়ে ৪৫০ দিন কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা। গতকাল সকালে খাদিজা কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিতে। সকাল ১০ টায় পরীক্ষা শুরু হলেও দেড় ঘন্টা পরে তিনি হলে প্রবেশ করেন। দুই সেমিস্টার লস দিয়ে চতুর্থ সেমিস্টারে পরীক্ষায় দিয়েছেন খাদিজা।

পরীক্ষা শেষে খাদিজা বলেন, আমি আজ কারাগার থেকে বের হয়েছি। আমার মুক্তির পেছনে গণমাধ্যমের অনেক ভূমিকা ছিলো তাই আমি গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। তাই আমি এ মুহুর্তে কথা বলতে পারছি না। এর আগে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে গণমাধ্যমকে খাদিজা বলেন, ‘আমার সঙ্গে অন্যায় তো হয়েছেই। বিনা দোষে আমি প্রায় ১৫ মাস জেল খাটলাম। এর চেয়ে বেশি কিছু আর এখন বলতে চাই না। বলার মতো মন-মানসিকতা আমার নেই। দীর্ঘ ১৫ মাসে বাহিরের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। ‘

খাদিজার বড় বোন সিরাজুম মনিরা বলেন,খুব সকালে আমরা কারাগারে যাই। তারপর সকাল ৯ টার সময় খাদিজাকে মুক্তি দেয়। খাদিজার মুক্তির পেছনে যারা প্রত্যক্ষ- পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করেছে আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছিলো অনেক। খাদিজার মুক্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড মোস্তফা কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কোন সহায়তা লাগলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে খাদিজাকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় খাদিজার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল ১৬ নভেম্বর খারিজ করেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে দুই মামলায় খাদিজাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকে।

প্রসঙ্গত অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচারসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। একটি মামলা হয় রাজধানীর কলাবাগান থানায়, অন্যটি নিউমার্কেট থানায়। দুটি মামলার বাদীই পুলিশ। এর আগে গত বছরের মে মাসে দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পর ওই বছরেই ২৭ আগস্ট মিরপুরের বাসা থেকে খাদিজাকে গ্রেপ্তার করেছিল নিউমার্কেট থানা-পুলিশ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে পরীক্ষা দিলেন খাদিজা

Update Time : ০৪:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩

জবি প্রতিবেদক

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের গ্রেফতার হয়ে ৪৫০ দিন কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা। গতকাল সকালে খাদিজা কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিতে। সকাল ১০ টায় পরীক্ষা শুরু হলেও দেড় ঘন্টা পরে তিনি হলে প্রবেশ করেন। দুই সেমিস্টার লস দিয়ে চতুর্থ সেমিস্টারে পরীক্ষায় দিয়েছেন খাদিজা।

পরীক্ষা শেষে খাদিজা বলেন, আমি আজ কারাগার থেকে বের হয়েছি। আমার মুক্তির পেছনে গণমাধ্যমের অনেক ভূমিকা ছিলো তাই আমি গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। তাই আমি এ মুহুর্তে কথা বলতে পারছি না। এর আগে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে গণমাধ্যমকে খাদিজা বলেন, ‘আমার সঙ্গে অন্যায় তো হয়েছেই। বিনা দোষে আমি প্রায় ১৫ মাস জেল খাটলাম। এর চেয়ে বেশি কিছু আর এখন বলতে চাই না। বলার মতো মন-মানসিকতা আমার নেই। দীর্ঘ ১৫ মাসে বাহিরের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। ‘

খাদিজার বড় বোন সিরাজুম মনিরা বলেন,খুব সকালে আমরা কারাগারে যাই। তারপর সকাল ৯ টার সময় খাদিজাকে মুক্তি দেয়। খাদিজার মুক্তির পেছনে যারা প্রত্যক্ষ- পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করেছে আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছিলো অনেক। খাদিজার মুক্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড মোস্তফা কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কোন সহায়তা লাগলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে খাদিজাকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় খাদিজার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল ১৬ নভেম্বর খারিজ করেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে দুই মামলায় খাদিজাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকে।

প্রসঙ্গত অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচারসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। একটি মামলা হয় রাজধানীর কলাবাগান থানায়, অন্যটি নিউমার্কেট থানায়। দুটি মামলার বাদীই পুলিশ। এর আগে গত বছরের মে মাসে দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পর ওই বছরেই ২৭ আগস্ট মিরপুরের বাসা থেকে খাদিজাকে গ্রেপ্তার করেছিল নিউমার্কেট থানা-পুলিশ।