করোনাকালীন চিকিৎসা সেবা নিয়ে ডাঃ রুবেলের নানা অভিজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৮:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২০
  • / ১৬০ Time View

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

করোনাকালীন সময়ে করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিয়ে একদিকে যেমন স্বস্তি আছে, রোগীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে কষ্টও আছে। আর এমন সব অভিজ্ঞতা নিয়েই তিন মাস পূর্ণ করল চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য চিকিৎসা দেওয়ার আলাদা আইসোলেশন ইউনিট।

এ বিষয়ে রবিবারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের এবং উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের  নিয়ে কথা হয় করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল এর সাথে।

ডা. রুবেল বলেন, প্রায় তিন মাসে সর্দিজ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ২৯৫ জন রোগী আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হন। এদের মধ্যে করোনা শনাক্ত  হয় ১১১ জনের। এবং নন-কভিড ছিলেন ১৮৪ জন। এর মধ্যে কভিড-১৯ নিয়ে আক্রান্ত ৪১ জন সুস্থ হয়েছেন। উপসর্গ নিয়ে আসা আরো ১২৫ জন সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ডা. রুবেল দুঃখ প্রকাশ করে জানান, আইসোলেশন ইউনিটে ২৫ জন রোগী মারা যান। যাঁদের মধ্যে কভিড-১৯ ছিলেন ৯ জন।

তিনি আরো জানান, স্বজনরা শেষ মূহুর্তে মুমূর্ষু অবস্থায় এখানে নিয়ে আসেন। ফলে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও রোগীর জীবন রক্ষা করা যায়নি।

ডা. রুবেল সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলেন, কেউ কভিড-১৯ বা করোনায় আক্রান্ত হলে তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নেবেন না। হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসুন। অথবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিন।

এদিকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন করোনা রোগী ২৫ জন এবং বাড়িতে আরো ৪৮ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অন্যদিকে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুরে কভিড-১৯ করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫২ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো ৮০ জন।

প্রসংগত উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল চাঁদপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। সেই মাসের ২৭ তারিখে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিতে চালু করা হয় আলাদা আইসোলেশন ইউনিট।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

করোনাকালীন চিকিৎসা সেবা নিয়ে ডাঃ রুবেলের নানা অভিজ্ঞতা

Update Time : ০৮:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২০

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

করোনাকালীন সময়ে করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিয়ে একদিকে যেমন স্বস্তি আছে, রোগীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে কষ্টও আছে। আর এমন সব অভিজ্ঞতা নিয়েই তিন মাস পূর্ণ করল চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য চিকিৎসা দেওয়ার আলাদা আইসোলেশন ইউনিট।

এ বিষয়ে রবিবারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের এবং উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের  নিয়ে কথা হয় করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল এর সাথে।

ডা. রুবেল বলেন, প্রায় তিন মাসে সর্দিজ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ২৯৫ জন রোগী আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হন। এদের মধ্যে করোনা শনাক্ত  হয় ১১১ জনের। এবং নন-কভিড ছিলেন ১৮৪ জন। এর মধ্যে কভিড-১৯ নিয়ে আক্রান্ত ৪১ জন সুস্থ হয়েছেন। উপসর্গ নিয়ে আসা আরো ১২৫ জন সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ডা. রুবেল দুঃখ প্রকাশ করে জানান, আইসোলেশন ইউনিটে ২৫ জন রোগী মারা যান। যাঁদের মধ্যে কভিড-১৯ ছিলেন ৯ জন।

তিনি আরো জানান, স্বজনরা শেষ মূহুর্তে মুমূর্ষু অবস্থায় এখানে নিয়ে আসেন। ফলে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও রোগীর জীবন রক্ষা করা যায়নি।

ডা. রুবেল সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলেন, কেউ কভিড-১৯ বা করোনায় আক্রান্ত হলে তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নেবেন না। হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসুন। অথবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিন।

এদিকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন করোনা রোগী ২৫ জন এবং বাড়িতে আরো ৪৮ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অন্যদিকে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুরে কভিড-১৯ করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫২ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো ৮০ জন।

প্রসংগত উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল চাঁদপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। সেই মাসের ২৭ তারিখে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিতে চালু করা হয় আলাদা আইসোলেশন ইউনিট।