কক্সবাজারে বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনায় ৩ জন গ্রেফতার

  • Update Time : ১০:৩২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২০
  • / 184

কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক বৃদ্ধকে টমটম থেকে নামিয়ে ধানক্ষেতে নিয়ে জামা-কাপড় ছিঁড়ে বিবস্ত্র করে নির্যাতনে অভিযুক্তদের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতভর অভিযান চালিয়ে জেলা পুলিশ ওই তিনজনকে ধরে ফেলে। এ বিষয়ে বুধবার (৩ জুন) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ন্যক্কারজনক ঘটনাটিতে জড়িত বাকিদেরও ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ২৪ মে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় নির্যাতনের শিকার হন নুরুল আলম (৭২)। ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল বখাটে যুবক ঘটনাটি ঘটায়।

এ ঘটনার পর ৩১ মে বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন চকরিয়া থানায় মামলা করেন। এতে ওই এলাকার মৃত মনির উল্লাহর ছেলে আনছুর আলম, বদিউল আলম, শাহ আলম, শাহ আলমের স্ত্রী আরেজ খাতুন, বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান, আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন এবং মনজুর আলমের ছেলে মো. রুবেলকে অভিযুক্ত করা হয়।

এজাহারে আশরাফ হোসাইন উল্লেখ করেন, ‘২৪ মে আমার বৃদ্ধ বাবা নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটমযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে যুবলীগ নেতা আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে পরনের লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিঁড়ে উলঙ্গ করে ফেলেন। পাশাপাশি তাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন।’

‘গ্রামের কয়েকজন যুবক এ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করেন। এ সময় আমার বাবা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলেও কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে আমার ছোট ভাই সিএনজিচালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে উদ্ধার করে। এরপর বাবাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।’

আশরাফ হোসাইন এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় আমার বাবার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ও পকেটে থাকা সাড়ে সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা।

আশরাফ হোসাইন বলেন, তুচ্ছ ঘটনার জেরে আমার বাবার ওপর অমানবিক নির্যাতন করেছেন সন্ত্রাসী আনছুর আলম। স্থানীয় যুবলীগ নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা সে করে না। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চকরিয়ার এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনাটি নজরে আসা মাত্রই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় এ তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো, বাকিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কক্সবাজারে বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনায় ৩ জন গ্রেফতার

Update Time : ১০:৩২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২০

কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক বৃদ্ধকে টমটম থেকে নামিয়ে ধানক্ষেতে নিয়ে জামা-কাপড় ছিঁড়ে বিবস্ত্র করে নির্যাতনে অভিযুক্তদের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতভর অভিযান চালিয়ে জেলা পুলিশ ওই তিনজনকে ধরে ফেলে। এ বিষয়ে বুধবার (৩ জুন) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ন্যক্কারজনক ঘটনাটিতে জড়িত বাকিদেরও ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ২৪ মে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় নির্যাতনের শিকার হন নুরুল আলম (৭২)। ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল বখাটে যুবক ঘটনাটি ঘটায়।

এ ঘটনার পর ৩১ মে বৃদ্ধ নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন চকরিয়া থানায় মামলা করেন। এতে ওই এলাকার মৃত মনির উল্লাহর ছেলে আনছুর আলম, বদিউল আলম, শাহ আলম, শাহ আলমের স্ত্রী আরেজ খাতুন, বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান, আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন এবং মনজুর আলমের ছেলে মো. রুবেলকে অভিযুক্ত করা হয়।

এজাহারে আশরাফ হোসাইন উল্লেখ করেন, ‘২৪ মে আমার বৃদ্ধ বাবা নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটমযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে যুবলীগ নেতা আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে পরনের লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিঁড়ে উলঙ্গ করে ফেলেন। পাশাপাশি তাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন।’

‘গ্রামের কয়েকজন যুবক এ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করেন। এ সময় আমার বাবা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলেও কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে আমার ছোট ভাই সিএনজিচালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে উদ্ধার করে। এরপর বাবাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।’

আশরাফ হোসাইন এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় আমার বাবার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ও পকেটে থাকা সাড়ে সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা।

আশরাফ হোসাইন বলেন, তুচ্ছ ঘটনার জেরে আমার বাবার ওপর অমানবিক নির্যাতন করেছেন সন্ত্রাসী আনছুর আলম। স্থানীয় যুবলীগ নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা সে করে না। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চকরিয়ার এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনাটি নজরে আসা মাত্রই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় এ তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো, বাকিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।