কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানালেন ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৩:১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
  • / 21

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

গত রোববার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমাল কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ঝড়ের তীব্রতায় একজন আহত, বাসস্থান ও ফসলের ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নসহ ব্যাপক পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৭ মে) বিকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও গৃহীত কার্যক্রমের এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে কক্সবাজার জেলায় বিদ্যমান ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। তন্মধ্যে ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯৭৮৭ জন আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। আশ্রিতদের মাঝে রান্না করা খাবারসহ শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পরিবেশন করা হয়েছে।

১১টি মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিতদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।

ঝড়ের সময় মহেশখালী উপজেলার এক বৃদ্ধ গাছের ডাল পড়ে আহত হয়েছেন। তিনি কুতুবজুম ইউনিয়নে ঘটিভাঙ্গা ডেম্বনিপাড়া এলাকার আবুল ফয়েজের ছেলে আবুল কালাম (৭৫)। তিনি বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঝড়ের তীব্রতায় কক্সবাজার পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়া এলাকায় মাটির বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।
এছাড়া এখনও কক্সবাজারে বাতাসের তীব্রতা এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি রয়েছে ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়: ঝড়ের ফলে ব্যাপক পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, শহরের নিম্নাঞ্চল, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, বড়বাজার, টেকপাড়া, কালুর দোকান, তারাবানিয়ার ছড়া, নুর পাড়া, সমিতি পাড়া, নাজিরারটেক, পাহাড়তলী, কুতুবদিয়াপাড়া ও হোটেল মোটেল জোন সহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। খুরুশকুল ও চৌফলদন্ডীতে বাতাসের তীব্রতায় অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে এবং ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য ৬৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ১৫৩টি কাঁচা ঘরের পরিবারদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
ঝড়ের সতর্কতা সংকেত নামিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন স্ব স্ব গৃহে ফিরে যাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা ঘরের পরিবারদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি জেলা, উপজেলা, স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পেরে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ২৫ মে বিকাল ৫ টায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন রাত ৮ টার মধ্যে সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সভাগুলোতে ঝড় মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন আরও জানায়, জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে দ্রুত গতি আনবে। কৃষি বিভাগ ফসলের ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানালেন ডিসি

Update Time : ০৩:১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

গত রোববার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমাল কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ঝড়ের তীব্রতায় একজন আহত, বাসস্থান ও ফসলের ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নসহ ব্যাপক পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৭ মে) বিকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও গৃহীত কার্যক্রমের এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে কক্সবাজার জেলায় বিদ্যমান ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। তন্মধ্যে ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯৭৮৭ জন আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। আশ্রিতদের মাঝে রান্না করা খাবারসহ শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পরিবেশন করা হয়েছে।

১১টি মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিতদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।

ঝড়ের সময় মহেশখালী উপজেলার এক বৃদ্ধ গাছের ডাল পড়ে আহত হয়েছেন। তিনি কুতুবজুম ইউনিয়নে ঘটিভাঙ্গা ডেম্বনিপাড়া এলাকার আবুল ফয়েজের ছেলে আবুল কালাম (৭৫)। তিনি বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঝড়ের তীব্রতায় কক্সবাজার পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়া এলাকায় মাটির বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।
এছাড়া এখনও কক্সবাজারে বাতাসের তীব্রতা এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি রয়েছে ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়: ঝড়ের ফলে ব্যাপক পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, শহরের নিম্নাঞ্চল, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, বড়বাজার, টেকপাড়া, কালুর দোকান, তারাবানিয়ার ছড়া, নুর পাড়া, সমিতি পাড়া, নাজিরারটেক, পাহাড়তলী, কুতুবদিয়াপাড়া ও হোটেল মোটেল জোন সহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। খুরুশকুল ও চৌফলদন্ডীতে বাতাসের তীব্রতায় অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে এবং ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য ৬৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ১৫৩টি কাঁচা ঘরের পরিবারদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
ঝড়ের সতর্কতা সংকেত নামিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন স্ব স্ব গৃহে ফিরে যাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানিয়েছেন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা ঘরের পরিবারদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি জেলা, উপজেলা, স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তায় ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পেরে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ২৫ মে বিকাল ৫ টায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন রাত ৮ টার মধ্যে সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সভাগুলোতে ঝড় মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন আরও জানায়, জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে দ্রুত গতি আনবে। কৃষি বিভাগ ফসলের ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেবে।