এবার গরুর মাংস বয়কটের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৯:০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪
  • / ১৫ Time View

এবারের রমজানে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে কেনা দায় হয়ে পড়েছিল মৌসুমি ফল তরমুজ। হুহু করে দাম বাড়িয়ে পিস থেকে কেজিতে তরমুজ বিক্রি শুরু করেন বিক্রেতারা। এতে একটি তরমুজের দাম পড়ে ৬০০-৮০০ টাকা। আকাশছোঁয়া দামে দিশেহারা ছিলেন সাধারণ ক্রেতারা।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরমুজ বয়কটের ডাক দেয় সাধারণ মানুষ। এতে দাম কমে অর্ধেকে এলেও এখন ক্রেতা পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। এবার তারই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে গরুর মাংস বয়কটের ডাক দিয়েছেন নেটিজেনরা। এ ছাড়া হাজার হাজার বাংলাদেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ফেসবুকের টাইমলাইনে কয়েকটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যা রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে।

আহমেদ তাওসিফ নামে একজন লিখেছেন: এবারের রমজানটা একটু ভিন্ন। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াতে ভোক্তারা এক হওয়াতে ব্যবসায়ীরা কতটা কোণঠাসা হয়েছে ভোক্তা সিন্ডিকেট। বয়কট এর শক্তি দেখুন

১০০ টাকার পানীয় ৬০ টাকা

৬০-৮০ টাকার বেগুন ২০-৪০ টাকা

৮০/১০০ টাকার লেবুর হালি ৩০ টাকা

৮০/১০০ টাকা কেজির তরমুজ ৫০ টাকা কেজি।

১১০ টাকা কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা।

দোকানে দোকানে অনেক বিদেশি পণ্য অবিক্রিত। দাম কমিয়েও বিভিন্ন পণ্য বিক্রিতে ভাটা। তরমুজ বিক্রেতার মাথায় হাত। বেগুন, ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতা ফেলে দিতে হচ্ছে সবজি বিক্রেতাদের।

অপেক্ষা করুন, আরও কমবে ইনশা আল্লাহ। সবাই এক হলে দাম থাকবে নাগালের ভেতর ইনশা আল্লাহ। মনে রাখবেন ভোক্তা না থাকলে ব্যবসায়ীরা কার কাছে পণ্য বিক্রি করবে? তাই ব্যবসায়ী না ভোক্তাদের দ্বারাই বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। একটু সচেতন হন। যেই জিনিস এর দাম বাড়বে, তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিন। যেই জিনিস আপনার বিশ্বাস এর সাথে যায় না। বাদ দিয়ে দিন। এটাই আসল নিয়ন্ত্রণ।’

ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট – তরমুজের ভাব বেড়েছিল আমাদের আম জনতার বয়কটে তার দাম এখন হাতের নাগালে। এভাবে গরুর মাংসও খাওয়া বাদ দিন, বয়কট করুন ১ বা ২ বা ৩ মাস। দেখবেন, সেটাও হাতের নাগালে চলে আসবে। ক্রেতা না কিনলে দাম বাড়িয়ে কয়দিন কাটা গরুর মাংস রাখবে ফ্রিজে! কম দামে ক্রেতা না কিনলে কতদিন চড়া দাম হাঁকাবে! ক্রেতাই যদি না থাকে কিসের সিন্ডিকেট! আমরা সব চাইলেই পারি! লাগবে শুধু একতা! চলেন, তরমুজের পরে এবার গরুর মাংসের দাম কমাই।

ভাইরাল হওয়া আরেকটি পোস্ট – আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় দেশবাসী আপনারা তরমুজকে বয়কট করেছেন, এখন বর্তমানে তরমুজের দাম ১০০ টাকা কেজির পরিবর্তে ৩০ টাকা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, এবার আপনাদের পালা, গরুর মাংসকে বয়কট করুন, দেখবেন ৮০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে চলে এসেছে গরুর মাংস। ধন্যবাদ।

ভাইরাল আরেকটি পোস্ট–আমি গরুর মাংস কিনলাম। বলল যে, দেশের মানুষ ভাত পায় না, গরুর মাংস কেনে। গরুর মাংসের ম্যালা দাম, আসুন গরুর মাংস বয়কট করি।

ভাইরাল আরেকটি পোস্ট– তরমুজের দাম বেড়েছিল আমরা সকলে তা বয়কট করেছিলাম তরমুজের সিন্ডিকেট ভেঙে দাম কমেছে। এবার চলুন গরুর মাংস বয়কট করি ১ মাস সবাই না কিনলে এটারও দাম কমে যাবে আমরা না কিনলে কার কাছে বিক্রি করবে তাই সবাই এরকম হোন।

এদিকে রমজানের শুরু থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি-উদ্যোগে কমদামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মাংস ব্যবসায়ী খলিল। এ ছাড়া উজ্জ্বল ও রতন নামে দুই ব্যবসায়ী কম দামে মাংস বিক্রি করছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

এবার গরুর মাংস বয়কটের ডাক

Update Time : ০৯:০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

এবারের রমজানে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে কেনা দায় হয়ে পড়েছিল মৌসুমি ফল তরমুজ। হুহু করে দাম বাড়িয়ে পিস থেকে কেজিতে তরমুজ বিক্রি শুরু করেন বিক্রেতারা। এতে একটি তরমুজের দাম পড়ে ৬০০-৮০০ টাকা। আকাশছোঁয়া দামে দিশেহারা ছিলেন সাধারণ ক্রেতারা।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরমুজ বয়কটের ডাক দেয় সাধারণ মানুষ। এতে দাম কমে অর্ধেকে এলেও এখন ক্রেতা পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। এবার তারই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে গরুর মাংস বয়কটের ডাক দিয়েছেন নেটিজেনরা। এ ছাড়া হাজার হাজার বাংলাদেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ফেসবুকের টাইমলাইনে কয়েকটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যা রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে।

আহমেদ তাওসিফ নামে একজন লিখেছেন: এবারের রমজানটা একটু ভিন্ন। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াতে ভোক্তারা এক হওয়াতে ব্যবসায়ীরা কতটা কোণঠাসা হয়েছে ভোক্তা সিন্ডিকেট। বয়কট এর শক্তি দেখুন

১০০ টাকার পানীয় ৬০ টাকা

৬০-৮০ টাকার বেগুন ২০-৪০ টাকা

৮০/১০০ টাকার লেবুর হালি ৩০ টাকা

৮০/১০০ টাকা কেজির তরমুজ ৫০ টাকা কেজি।

১১০ টাকা কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা।

দোকানে দোকানে অনেক বিদেশি পণ্য অবিক্রিত। দাম কমিয়েও বিভিন্ন পণ্য বিক্রিতে ভাটা। তরমুজ বিক্রেতার মাথায় হাত। বেগুন, ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতা ফেলে দিতে হচ্ছে সবজি বিক্রেতাদের।

অপেক্ষা করুন, আরও কমবে ইনশা আল্লাহ। সবাই এক হলে দাম থাকবে নাগালের ভেতর ইনশা আল্লাহ। মনে রাখবেন ভোক্তা না থাকলে ব্যবসায়ীরা কার কাছে পণ্য বিক্রি করবে? তাই ব্যবসায়ী না ভোক্তাদের দ্বারাই বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। একটু সচেতন হন। যেই জিনিস এর দাম বাড়বে, তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিন। যেই জিনিস আপনার বিশ্বাস এর সাথে যায় না। বাদ দিয়ে দিন। এটাই আসল নিয়ন্ত্রণ।’

ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট – তরমুজের ভাব বেড়েছিল আমাদের আম জনতার বয়কটে তার দাম এখন হাতের নাগালে। এভাবে গরুর মাংসও খাওয়া বাদ দিন, বয়কট করুন ১ বা ২ বা ৩ মাস। দেখবেন, সেটাও হাতের নাগালে চলে আসবে। ক্রেতা না কিনলে দাম বাড়িয়ে কয়দিন কাটা গরুর মাংস রাখবে ফ্রিজে! কম দামে ক্রেতা না কিনলে কতদিন চড়া দাম হাঁকাবে! ক্রেতাই যদি না থাকে কিসের সিন্ডিকেট! আমরা সব চাইলেই পারি! লাগবে শুধু একতা! চলেন, তরমুজের পরে এবার গরুর মাংসের দাম কমাই।

ভাইরাল হওয়া আরেকটি পোস্ট – আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় দেশবাসী আপনারা তরমুজকে বয়কট করেছেন, এখন বর্তমানে তরমুজের দাম ১০০ টাকা কেজির পরিবর্তে ৩০ টাকা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, এবার আপনাদের পালা, গরুর মাংসকে বয়কট করুন, দেখবেন ৮০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে চলে এসেছে গরুর মাংস। ধন্যবাদ।

ভাইরাল আরেকটি পোস্ট–আমি গরুর মাংস কিনলাম। বলল যে, দেশের মানুষ ভাত পায় না, গরুর মাংস কেনে। গরুর মাংসের ম্যালা দাম, আসুন গরুর মাংস বয়কট করি।

ভাইরাল আরেকটি পোস্ট– তরমুজের দাম বেড়েছিল আমরা সকলে তা বয়কট করেছিলাম তরমুজের সিন্ডিকেট ভেঙে দাম কমেছে। এবার চলুন গরুর মাংস বয়কট করি ১ মাস সবাই না কিনলে এটারও দাম কমে যাবে আমরা না কিনলে কার কাছে বিক্রি করবে তাই সবাই এরকম হোন।

এদিকে রমজানের শুরু থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি-উদ্যোগে কমদামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মাংস ব্যবসায়ী খলিল। এ ছাড়া উজ্জ্বল ও রতন নামে দুই ব্যবসায়ী কম দামে মাংস বিক্রি করছেন।