ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরাদের তালিকা প্রকাশের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৩:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪
  • / 30

বাংলাদেশের সব সম্পদ আজ লুট হয়ে যাচ্ছে। যারা লুটপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কারা ঋণখেলাপি, অর্থপাচারকারী ও ব্যাংক লুট করছে তাদের নাম আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এ তালিক প্রকাশ করা না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আরও বেশি মানুষ নিয়ে সমাবেশ করার আল্টিমেটাম দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন।

মঙ্গলবার (২১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন সমাবেশ থেকে এ আল্টিমেটাম দিয়েছে দলটি।

এর আগে ব্যাংক লুটেরা, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবিতে গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশে বাঁধা দেয় পুলিশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকে শেষ পর্যন্ত শাপলাচত্বর সংলঘ্ন ফুটওভারব্রীজের সামনে সমাবেশ করেন দলটির নেতার। সমাবেশের আগে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী বলেন, বাংলাদেশের সব সম্পদ আজ লুট হয়ে যাচ্ছে, ফুকলা হয়ে যাচ্ছে। যারা লুটপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের তোষণ করা হচ্ছে। কারা ব্যাংক লুট করছে, ঋণখেণাপি, অর্থপাচারকারীদের নাম আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। তাদের তালিক প্রকাশ করা না হলে সমাবেশ করা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খেলাপি ঋণ এক লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবে খেলাপি ঋণ চার লাখ কোটি টাকার বেশি। আর প্রকৃত খেলাপি ঋণ আরও বেশি। এক ব্যাংকের পরিচালক আরেক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেয় না, কিন্তু তাদেরকে খোলাপিও দেখানো হয় না।

রিজার্ভ নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ নিয়ে বড়াই করতো। এখন প্রকৃত রিজার্ভ নেমেছে ১৩ বিলিয়নে ডলারে। যারা রপ্তানি করে অর্থ ফেরত আনছেন না, তাদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বিদ্যুতের বেলায় দেখা গেল বসিয়ে বসিয়ে নিজেদের ভাই-ব্রাদারদের ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এখন এভাবে প্রতিটি খাতে লুটপাট করা হচ্ছে। অন্যদিকে জনগণের নাভিশ্বাস বইছে। ভোট ছাড়া যারা সরকারকে ক্ষমতায় রেখেছে তারা হাজার-হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে, যার সেরা উদাহারণ পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ।

সাকী আরও বলেন, ব্যাংক বসে পড়লে আমানতকারী আর টাকা ফেরত পাবেন না। বেতন হবে না কর্মীদের। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে এখন দূর্বল ব্যাংক একীভূত করা হচ্ছে। আবার একই ব্যক্তির হাতে একাধিক ব্যাংক দেওয়া হচ্ছে, এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরাদের তালিকা প্রকাশের আল্টিমেটাম

Update Time : ০৩:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

বাংলাদেশের সব সম্পদ আজ লুট হয়ে যাচ্ছে। যারা লুটপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কারা ঋণখেলাপি, অর্থপাচারকারী ও ব্যাংক লুট করছে তাদের নাম আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এ তালিক প্রকাশ করা না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আরও বেশি মানুষ নিয়ে সমাবেশ করার আল্টিমেটাম দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন।

মঙ্গলবার (২১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন সমাবেশ থেকে এ আল্টিমেটাম দিয়েছে দলটি।

এর আগে ব্যাংক লুটেরা, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবিতে গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশে বাঁধা দেয় পুলিশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকে শেষ পর্যন্ত শাপলাচত্বর সংলঘ্ন ফুটওভারব্রীজের সামনে সমাবেশ করেন দলটির নেতার। সমাবেশের আগে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী বলেন, বাংলাদেশের সব সম্পদ আজ লুট হয়ে যাচ্ছে, ফুকলা হয়ে যাচ্ছে। যারা লুটপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের তোষণ করা হচ্ছে। কারা ব্যাংক লুট করছে, ঋণখেণাপি, অর্থপাচারকারীদের নাম আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। তাদের তালিক প্রকাশ করা না হলে সমাবেশ করা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খেলাপি ঋণ এক লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবে খেলাপি ঋণ চার লাখ কোটি টাকার বেশি। আর প্রকৃত খেলাপি ঋণ আরও বেশি। এক ব্যাংকের পরিচালক আরেক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেয় না, কিন্তু তাদেরকে খোলাপিও দেখানো হয় না।

রিজার্ভ নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ নিয়ে বড়াই করতো। এখন প্রকৃত রিজার্ভ নেমেছে ১৩ বিলিয়নে ডলারে। যারা রপ্তানি করে অর্থ ফেরত আনছেন না, তাদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বিদ্যুতের বেলায় দেখা গেল বসিয়ে বসিয়ে নিজেদের ভাই-ব্রাদারদের ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এখন এভাবে প্রতিটি খাতে লুটপাট করা হচ্ছে। অন্যদিকে জনগণের নাভিশ্বাস বইছে। ভোট ছাড়া যারা সরকারকে ক্ষমতায় রেখেছে তারা হাজার-হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে, যার সেরা উদাহারণ পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ।

সাকী আরও বলেন, ব্যাংক বসে পড়লে আমানতকারী আর টাকা ফেরত পাবেন না। বেতন হবে না কর্মীদের। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে এখন দূর্বল ব্যাংক একীভূত করা হচ্ছে। আবার একই ব্যক্তির হাতে একাধিক ব্যাংক দেওয়া হচ্ছে, এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।