ঈদে স্ত্রীকে মাংস খাওয়াতে না পারায় যুবকের আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ১০:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৩০ Time View

ঈদের দিনে মাংস কিনে দিতে না পেরে স্ত্রীর মন খারাপ দেখে চিঠি লিখে আত্মহত্যা করেছেন হাসান আলী (২৬) নামে এক যুবক।

তিনি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের বান্দের পাড় গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।

পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছে, হাসান আলী ঈদের দিন নামাজ পড়ে এসে একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়ে স্ত্রী আফরোজাকে পাশের গ্রাম জোলাপাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। রাতে তার শ্বশুর বাড়িতে যাবার কথা ছিল। কিন্তু না গিয়ে প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রী আফরোজা বেগমকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার কথা ছিল হাসানের। সকাল ১১ টা পর্যন্ত শ্বশুর বাড়িতে না যাওয়ায় তার স্ত্রী আফরোজা বেগম বাবার বাড়ি থেকে চলে আসেন। এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। এ সময় অনেক ডাকাডাকি করে স্বামীর সাড়া না পেয়ে ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখেন হাসান আলী আঁড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। তার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। তার মরদেহের পাশে একটি চিঠি উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই চিঠিতে হাসান আলী লিখে গেছেন, ‘মা-বাবা তোমরা ক্ষমা করে দিও। আমি মরার পরে আমার বউ মেয়েকে দেখে রেখ। আমি জানি আমার বউ আমার সাথে রাগ করেছে। ঈদের জন্য সবাই গোস্ত (মাংস) খাইছে, কিন্তু আমি গোস্ত (মাংস) খিলাইতে পারিনি। আমি আমার বউয়ের মুখ ঈদের দিন বেজার দেখলাম। যদি পারো ক্ষমা করে দিও। মা-বাবা তোমরা আফরোজাকে কিছু বলবা না। কারণ আমি ওরে খুব ভালোবাসি। আমার মেয়েকে দেখে রেখ। আফরোজা তোমার জীবন স্বাধীন করে দিলাম, তোমার জীবনে কেউ নাই।’

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান জানান, পরিবারের আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঈদে স্ত্রীকে মাংস খাওয়াতে না পারায় যুবকের আত্মহত্যা

Update Time : ১০:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪

ঈদের দিনে মাংস কিনে দিতে না পেরে স্ত্রীর মন খারাপ দেখে চিঠি লিখে আত্মহত্যা করেছেন হাসান আলী (২৬) নামে এক যুবক।

তিনি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের বান্দের পাড় গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।

পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছে, হাসান আলী ঈদের দিন নামাজ পড়ে এসে একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়ে স্ত্রী আফরোজাকে পাশের গ্রাম জোলাপাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। রাতে তার শ্বশুর বাড়িতে যাবার কথা ছিল। কিন্তু না গিয়ে প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রী আফরোজা বেগমকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার কথা ছিল হাসানের। সকাল ১১ টা পর্যন্ত শ্বশুর বাড়িতে না যাওয়ায় তার স্ত্রী আফরোজা বেগম বাবার বাড়ি থেকে চলে আসেন। এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। এ সময় অনেক ডাকাডাকি করে স্বামীর সাড়া না পেয়ে ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখেন হাসান আলী আঁড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। তার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। তার মরদেহের পাশে একটি চিঠি উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই চিঠিতে হাসান আলী লিখে গেছেন, ‘মা-বাবা তোমরা ক্ষমা করে দিও। আমি মরার পরে আমার বউ মেয়েকে দেখে রেখ। আমি জানি আমার বউ আমার সাথে রাগ করেছে। ঈদের জন্য সবাই গোস্ত (মাংস) খাইছে, কিন্তু আমি গোস্ত (মাংস) খিলাইতে পারিনি। আমি আমার বউয়ের মুখ ঈদের দিন বেজার দেখলাম। যদি পারো ক্ষমা করে দিও। মা-বাবা তোমরা আফরোজাকে কিছু বলবা না। কারণ আমি ওরে খুব ভালোবাসি। আমার মেয়েকে দেখে রেখ। আফরোজা তোমার জীবন স্বাধীন করে দিলাম, তোমার জীবনে কেউ নাই।’

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান জানান, পরিবারের আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।