আনার হত্যাকাণ্ড: বাগজোলা খাল থেকে হাড়গোড় উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০১:৪০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪
  • / 21

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিয়াম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতার সিআইডি বাগজোলা খালে অভিযান চালিয়েছে। ওই খাল থেকে হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও এগুলো কার হাড় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রবিবার আনন্দবাজার অনলাইনে এ খবর দেওয়া হয়।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন বলছে, সিআইডি কর্মকর্তারা রবিবার সকালে সিয়ামকে নিয়ে ভাঙড় এলাকায় যান। সেখান গিয়ে বাগজোলা খালে নেমে তল্লাশি চালিয়ে হাড়গোড় উদ্ধার করেন তারা। এগুলো মানুষেরই বলে মনে হয়। তবে সেই হাড় আনারের কি না তা স্পষ্ট নয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় তা জানা যাবে। সূত্র বলছে, একটি ঝোপের পাশ থেকে হাড়গোড়গুলো উদ্ধার করা হয়।

এদিকে হাড় উদ্ধারের মধ্যদিয়ে সিআইডি আনার হত্যার বড় সূত্র পেতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে নিউ টাউনের অভিজাত আবাসনের সেপটিক ট্যাংক থেকে পাঁচ কিলোগ্রাম ছোট ছোট মাংসের টুকরো উদ্ধার করেছিল সিআইডি। সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এবার বাগজোলা খাল থেকে উদ্ধারকৃত হাড়গুলোও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে সিআইডি সূত্রের খবর।

হাড়গুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ডিএনএ প্রোফাইল করতে আনোয়ারুল আজীম আনারের রক্তের সম্পর্কিত কারও কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। উদ্ধার হওয়া মাংসের টুকরো বা হাড়ের ডিএনএ প্রোফাইল করতে আনারের মেয়েকে তলব করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। শনিবার তাকে বারাসত আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ১৪ দিন পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

গত ১৩ মে আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার পর নিউ টাউনের অভিজাত আবাসন থেকে তাদের দেহের অংশ সুটকেসে ভরে কৃষ্ণমাটিতে বাগজোলা খালে ফেলে দেন সিয়াম। তার সঙ্গে ছিলেন অন্যতম অভিযুক্ত জিহাদ হাওলাদার। জিহাদকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতার সিআইডি। গত ১৬ মে বিহার হয়ে নেপালে পালিয়েছিলেন সিয়াম।

গত ১২ মে ভারতে যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। ১৩ মে তিনি কলকাতার অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট সঞ্জীবা গার্ডেনে প্রবেশ করেন। ওই অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন আরও দুজন। জীবিত অবস্থায় আনার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করলেও তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। ঘাতকরা তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আনার হত্যাকাণ্ড: বাগজোলা খাল থেকে হাড়গোড় উদ্ধার

Update Time : ০১:৪০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪

বাংলাদেশের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিয়াম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতার সিআইডি বাগজোলা খালে অভিযান চালিয়েছে। ওই খাল থেকে হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও এগুলো কার হাড় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রবিবার আনন্দবাজার অনলাইনে এ খবর দেওয়া হয়।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন বলছে, সিআইডি কর্মকর্তারা রবিবার সকালে সিয়ামকে নিয়ে ভাঙড় এলাকায় যান। সেখান গিয়ে বাগজোলা খালে নেমে তল্লাশি চালিয়ে হাড়গোড় উদ্ধার করেন তারা। এগুলো মানুষেরই বলে মনে হয়। তবে সেই হাড় আনারের কি না তা স্পষ্ট নয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় তা জানা যাবে। সূত্র বলছে, একটি ঝোপের পাশ থেকে হাড়গোড়গুলো উদ্ধার করা হয়।

এদিকে হাড় উদ্ধারের মধ্যদিয়ে সিআইডি আনার হত্যার বড় সূত্র পেতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে নিউ টাউনের অভিজাত আবাসনের সেপটিক ট্যাংক থেকে পাঁচ কিলোগ্রাম ছোট ছোট মাংসের টুকরো উদ্ধার করেছিল সিআইডি। সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এবার বাগজোলা খাল থেকে উদ্ধারকৃত হাড়গুলোও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে সিআইডি সূত্রের খবর।

হাড়গুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ডিএনএ প্রোফাইল করতে আনোয়ারুল আজীম আনারের রক্তের সম্পর্কিত কারও কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। উদ্ধার হওয়া মাংসের টুকরো বা হাড়ের ডিএনএ প্রোফাইল করতে আনারের মেয়েকে তলব করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। শনিবার তাকে বারাসত আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ১৪ দিন পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

গত ১৩ মে আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার পর নিউ টাউনের অভিজাত আবাসন থেকে তাদের দেহের অংশ সুটকেসে ভরে কৃষ্ণমাটিতে বাগজোলা খালে ফেলে দেন সিয়াম। তার সঙ্গে ছিলেন অন্যতম অভিযুক্ত জিহাদ হাওলাদার। জিহাদকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতার সিআইডি। গত ১৬ মে বিহার হয়ে নেপালে পালিয়েছিলেন সিয়াম।

গত ১২ মে ভারতে যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। ১৩ মে তিনি কলকাতার অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট সঞ্জীবা গার্ডেনে প্রবেশ করেন। ওই অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন আরও দুজন। জীবিত অবস্থায় আনার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করলেও তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। ঘাতকরা তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।