অভিবাসীরা কেউ আর ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যাবে না : কেএম‌পি ক‌মিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৭:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪
  • / 14

খুলনা:

খুলনা পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে যে সকল অভিবাসীরা যাবে তারা কেউ আর ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যাবে না। তারা কেউ আর অসহায় আশ্রয়হীন অবস্থায় ফুটপাতে, রাস্তায় কাটাবে না। এমন একটি কর্মপরিবেশ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এজেন্সি এবং টিটিসি মিলে আমরা করতে চাই। তিনি বলেন বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ।

পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক রবিবার (৯ জুন) বেলা ১১ টায় আড়ংঘাটা থানাধীন তেলিগাতী কুয়েট রোডে অবস্থিত খুলনা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আয়োজিত “নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক” সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানব পাচার মধ্যপ্রাচ্যেও হচ্ছে, পার্শ্ববর্তী দেশে মানব পাচারের শিকার হচ্ছে আমাদের মেয়েরা। উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষায় ভুল পথে পা বাড়িয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। যেহেতু তারা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরো কর্তৃক সার্টিফাইড না হয়ে, বিপথে কোন রকম টুরিস্ট ভিসায় বা অন্য কোন ভিসায় গিয়ে সত্যি সত্যি বিপদগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর এমন কোন জনপদ নেই, যে জনপথে বাংলাদেশের মানুষ নেই। ১ কোটি ৪০ লাখের উপরে, এই বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রবাসে আছেন। এটি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মানুষের গর্বের অংশ হিসেবে তারাও বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করে। আমাদের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ হচ্ছে অপ্রশিক্ষিত। তারা বিদেশে গিয়ে শ্রমবান্ধব কিংবা কোন টেকনিক্যাল কাজ করতে পারে না। যে কারণে আমরা এই জায়গাটাই হাত দিতে চাই। আমরা আমাদের দেশের মানুষকে বিদেশে বিপদগ্রস্ত দেখতে চাই না। শ্রমের পাশাপাশি তারা একটু উন্নত জীবন যাপন করুক সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের যে পরিমাণ মানুষ বিদেশে আছে, এই পরিমাণ মানুষ যদি সত্যি সত্যি প্রশিক্ষিত হতো, দক্ষতা সম্পন্ন হতো, তাহলে এখান থেকে আরো তিন গুণ অর্থাৎ ১’শ বিলিয়ন ডলার বেশী আয় করতে পারতাম।

“প্রবাসীর কল্যাণ, মর্যাদা আমাদের অঙ্গীকার, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় তারাও সমান অংশীদার” এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত খুলনা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম। সেমিনারে বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক প্রবীর দত্ত, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোরশেদ আলম, খুলনা শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ দপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. আব্দুল অহিদ মোড়ল, খুলনা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার সাদিয়া আফরিন সিদ্দিকী, গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ, খ্রীস্টান মিশনারিজের সাইমন, যোগীপোল ইউপি সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম ও জিএম এনামুল কবির, ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রতিনিধি শাহাবুদ্দিন আহমেদ জুয়েল, মহিলা টিটিসি’র গার্মেন্টস ট্রেডের প্রশিক্ষক জিনাত রহমান, প্রশিক্ষক মো. আশিকুর রহমান, সিনিয়র প্রশিক্ষক আঞ্জুমনোয়ারা বেগম, জেনারেল শিক্ষক মো. আবুল হোসেন, প্রবাস ফেরত মো. একরামুল হোসেন লিপু ও সাধু মঠের প্রেমানন্দ প্রমুখ।

সেমিনার পরিচালনা করেন মহিলা টিটিসির প্রাক বহির্গম বিভাগের ইনচার্জ মো. তৌহিদুর রহমান ও হিসাব রক্ষক মো. শাহিনুর রহমান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

অভিবাসীরা কেউ আর ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যাবে না : কেএম‌পি ক‌মিশনার

Update Time : ০৭:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪

খুলনা:

খুলনা পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে যে সকল অভিবাসীরা যাবে তারা কেউ আর ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যাবে না। তারা কেউ আর অসহায় আশ্রয়হীন অবস্থায় ফুটপাতে, রাস্তায় কাটাবে না। এমন একটি কর্মপরিবেশ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন এজেন্সি এবং টিটিসি মিলে আমরা করতে চাই। তিনি বলেন বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ।

পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক রবিবার (৯ জুন) বেলা ১১ টায় আড়ংঘাটা থানাধীন তেলিগাতী কুয়েট রোডে অবস্থিত খুলনা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আয়োজিত “নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক” সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানব পাচার মধ্যপ্রাচ্যেও হচ্ছে, পার্শ্ববর্তী দেশে মানব পাচারের শিকার হচ্ছে আমাদের মেয়েরা। উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষায় ভুল পথে পা বাড়িয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। যেহেতু তারা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরো কর্তৃক সার্টিফাইড না হয়ে, বিপথে কোন রকম টুরিস্ট ভিসায় বা অন্য কোন ভিসায় গিয়ে সত্যি সত্যি বিপদগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর এমন কোন জনপদ নেই, যে জনপথে বাংলাদেশের মানুষ নেই। ১ কোটি ৪০ লাখের উপরে, এই বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রবাসে আছেন। এটি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মানুষের গর্বের অংশ হিসেবে তারাও বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করে। আমাদের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ হচ্ছে অপ্রশিক্ষিত। তারা বিদেশে গিয়ে শ্রমবান্ধব কিংবা কোন টেকনিক্যাল কাজ করতে পারে না। যে কারণে আমরা এই জায়গাটাই হাত দিতে চাই। আমরা আমাদের দেশের মানুষকে বিদেশে বিপদগ্রস্ত দেখতে চাই না। শ্রমের পাশাপাশি তারা একটু উন্নত জীবন যাপন করুক সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের যে পরিমাণ মানুষ বিদেশে আছে, এই পরিমাণ মানুষ যদি সত্যি সত্যি প্রশিক্ষিত হতো, দক্ষতা সম্পন্ন হতো, তাহলে এখান থেকে আরো তিন গুণ অর্থাৎ ১’শ বিলিয়ন ডলার বেশী আয় করতে পারতাম।

“প্রবাসীর কল্যাণ, মর্যাদা আমাদের অঙ্গীকার, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় তারাও সমান অংশীদার” এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত খুলনা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম। সেমিনারে বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক প্রবীর দত্ত, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোরশেদ আলম, খুলনা শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ দপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. আব্দুল অহিদ মোড়ল, খুলনা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার সাদিয়া আফরিন সিদ্দিকী, গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ, খ্রীস্টান মিশনারিজের সাইমন, যোগীপোল ইউপি সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম ও জিএম এনামুল কবির, ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রতিনিধি শাহাবুদ্দিন আহমেদ জুয়েল, মহিলা টিটিসি’র গার্মেন্টস ট্রেডের প্রশিক্ষক জিনাত রহমান, প্রশিক্ষক মো. আশিকুর রহমান, সিনিয়র প্রশিক্ষক আঞ্জুমনোয়ারা বেগম, জেনারেল শিক্ষক মো. আবুল হোসেন, প্রবাস ফেরত মো. একরামুল হোসেন লিপু ও সাধু মঠের প্রেমানন্দ প্রমুখ।

সেমিনার পরিচালনা করেন মহিলা টিটিসির প্রাক বহির্গম বিভাগের ইনচার্জ মো. তৌহিদুর রহমান ও হিসাব রক্ষক মো. শাহিনুর রহমান।