Monday, July 26, 2021
Homeফিচারঅনলাইন থেকে অফলাইনে ঘুরে দাঁড়ালেন সোনিয়া

অনলাইন থেকে অফলাইনে ঘুরে দাঁড়ালেন সোনিয়া

আনিসুল ইসলাম নাঈম:

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সোনিয়া রহমান। ছোট থেকেই দুষ্টুমিতে কমতি ছিলনা। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আকাঁ, বই পড়া ও লেখালেখি প্রিয় শখ ছিল। অর্জনের তালিকায় থাকতো যেকোন প্রতিযোগীতায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান। ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল নিজে কিছু করবেন। বাঁধাহীন নিজের ইচ্ছে মতো চলবেন।

সোনিয়ার জন্ম ও বেড়ে উঠা চাঁদপুর সদরে। বর্তমানে তিনি অনার্স কোর্সে অধ্যয়নরত আছেন। মনে থাকা স্বপ্ন ইন্টারমিডিয়েট পড়া অবস্থায় তীব্র হতে থাকে। এর মধ্যেই সোনিয়াকে বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। কিন্ত সোনিয়ার বড় হবার স্বপ্ন দেখা বন্ধ হয়নি। স্বামীর সহায়তায় ফেসবুকে একটা গ্রুপ খুলেন।

গ্রুপে নিয়মিত লেখালেখি ও দৃশ্য আঁকার পোস্ট করা হতো। পাশাপাশি খাবারের ছবিও দেওয়া হতো। তখন থেকে তার মনে সাহস উঁকি দেয়। সোনিয়া বলেন ‘আমার বাড়ি গ্রামের দিকে। এখানকার মানুষ ফেসবুক ও ইন্টারনেট সর্ম্পকে তেমন বুঝতো না’। সোনিয়ার বাসায় তার কিছু অব্যবহৃত প্রোডাক্ট ছিল। নিজের কৌতূহল থেকে সে ছবি গ্রুপে দিয়ে দেন। অবিশ্বাস্য ভাবে ৭ টির মধ্যে ৩ টিই বিক্রি হয়ে যায়। মনে মনে আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা বড় হতে থাকে। তারপর সাধারণ কিছু ড্রেসের ছবি গ্রুপে দেন। তখন সবার সারা পেতে থাকেন ।পাশাপাশি অনেকেই ব্যবসার জন্য সাপোর্ট দেন।

No description available.

বিশেষ করে তার স্বামী ও বাবা-মা সবসময় পাশে ছিলেন। তখন থেকে সিন্ধান্ত নেন অনলাইনে ব্যবসা করবেন। পাশাপাশি গ্রুপের নাম দেন ‘ফ্যাশন কর্নার।’

প্রথমে ২৬০০ টাকার পণ্য কিনে ব্যবসা শুরু করেন। সাথে সাথে ফেসবুক গ্রুপের মেম্বার সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। গ্রুপে শাড়ি-পান্জাবী, থ্রিপিস, কামিজ, বাচ্চাদের ড্রেস ও ফ্যামিলি ম্যাচিং ড্রেস, জুয়েলার্স ও অন্যান্য পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে থাকেন। ধীরে ধীরে অর্ডারের পরিমান বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে মানুষের চাহিদাও: অল্পতেই জনপ্রিয় হয়ে উঠে ‘ফ্যাশন কর্নার’ গ্রুপ। অল্প দিয়ে শুরু করলেও এখন প্রতি মাসে অর্ধলক্ষ টাকার বেশী পণ্য বিক্রি হয়, বলে জানান। হোম ডেলিভারি ও কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য অর্ডার পৌঁছে দেওয়া হয়।

খানিকটা আক্ষেপের স্বরে সোনিয়া বলেন, ‘প্রথমে যখন হোম ডেলিভারি দিতাম, সবাই বলতো মেয়ে হয়ে এসব কাজ করছি। মেয়েকে দিয়ে এখন কাজ করে খাওয়াবে। যখন দেখলো অনলাইনে অনেক ভালো বিক্রি হচ্ছে তখন সবাই ভালো বলছে। শ্বশুর বাড়ি, স্বামী ও ফ্যামিলি থেকে সবসময় অনুপ্রেরণা পেয়েছি’। সোনিয়া ‘ফ্যাশন কর্নারে’ মানসম্মত পণ্য বিক্রি করার ফলে সবার বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছেন। তাছাড়া সবার থেকে সম্মানের জায়গাটাও বেড়ে যায়। ভাবতে থাকেন, ব্যবসা আরো বড় করবেন এবং শহরে দোকান দিবেন। সেই থেকে দোকান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এতে গ্রুপের সবার সাপোর্ট পান।

স্বামীর ও সবার সহযোগিতায় চাঁদপুর শহরে গড়ে তুলেন দোকান। অনলাইনে ব্যবসা করে তারাই প্রথম শহরে দোকান গড়ে তুলেন। বর্তমানে সে ও তার স্বামী দোকান দেখাশোনা করেন। দিনের একবেলা সময় আদরের সন্তানকে নিয়ে দোকানে সময় দেন সোনিয়া। পাশাপাশি তার স্বামী দেখাশোনা করেন। ‘দোকান দেওয়ার পর থেকে সবার অনেক সাপোর্ট পেয়েছেন এবং আগের তুলনায় ব্যবসা ভালো হচ্ছে, বলে জানান সোনিয়া’। কয়েকদিনে সোনিয়ার ইচ্ছেকে যেমন ব্যবসায় পরিণত করে উপার্জন করেছেন টাকা, ঠিক তেমনি সমানতালে মিলেছে মানুষের সাড়াও। সোনিয়ার ভাষায় ‘দোকান দেওয়ার শুরুতে অনেক বাঁধা আসে। এসব বাধা কখনও আমাদের থামাতে পারেনি। সব বাঁধা এক করে সামনে এগিয়ে গেছি’।

সম্প্রতি বেশ কয়েকবার ফ্যাশন কর্নারের পক্ষ থেকে গরীব ও অসহায়দের সহযোগিতা করা হয়েছে।

সোনিয়া জানালেন ভবিষ্যত পরিকল্পনা- অতি শীঘ্রই ঢাকা ও কুমিল্লায় ‘ফ্যাশন কর্নারের’ শাখা খোলা হবে।পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের আরো শাখা করার স্বপ্ন রয়েছে।তাছাড়া সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায়দের নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular